
কানাডার ফেডারেল সরকার পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথির ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ থেকে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর এই প্রথমবারের মতো ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল্যস্ফীতি, নিরাপদ ভ্রমণ নথি তৈরির ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা জানায়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ পাসপোর্ট তৈরি ও পরিষেবা বজায় রাখতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বর্তমান ফি কাঠামো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, কানাডার অভ্যন্তরে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ফি ২.৫০ ডলার বেড়ে হবে ১২২.৫০ ডলার, প্রাপ্তবয়স্কদের ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ফি ৩.৫০ ডলার বেড়ে হবে ১৬৩.৫০ ডলার এবং শিশুদের ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ফি ১.৫০ ডলার বেড়ে হবে ৫৮.৫০ ডলার। অন্যদিকে, যারা দেশের বাইরে থেকে আবেদন করবেন, তাদের জন্য ফি আরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে : প্রাপ্তবয়স্কদের ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ফি ৬.২৫ ডলার বেড়ে হবে ২৬৬.২৫ ডলার, ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ফি ৪.২৫ ডলার বেড়ে দাঁড়াবে ১৯৪.২৫ ডলার।
সরকার বলছে, সর্বশেষ ২০১৩ সালে পাসপোর্ট ফি বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময়ের পর থেকে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিষেবা ব্যবস্থাপনায় ব্যয় অনেকটাই বেড়েছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখতে উন্নত বায়োমেট্রিক ও ডিজিটাল সিস্টেম চালু করাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফি সমন্বয় করা হবে। এটি করা হবে কানাডার সার্ভিস ফি অ্যাক্ট অনুযায়ী, যাতে সরকারি পরিষেবাগুলো টেকসই ও কার্যকর থাকে।
ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, পাসপোর্ট আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে আবেদনকারীর কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না যা নাগরিক সেবায় জবাবদিহিতা বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফি বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কারণ, ভবিষ্যতে প্রতি বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি সমন্বয় করা হবে যা নাগরিকদের জন্য নিয়মিত খরচ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তবে অন্যদিকে, উন্নত নিরাপত্তা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের সমন্বয়কে প্রয়োজনীয় বলেও মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কানাডার উচ্চমান বজায় রাখতে এই বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডার নতুন পাসপোর্ট ফি কাঠামো একদিকে যেমন নাগরিকদের ওপর সামান্য আর্থিক চাপ বাড়াবে, অন্যদিকে উন্নত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত সময়সীমা ও সেবার মান কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং নাগরিকরা এই পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করেন।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ
