বিচারক নিয়োগে সংস্কারের দাবি আরও তিন প্রদেশের

Professional woman in a dark blazer with a pearl necklace smiling at the camera.
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথ

কানাডায় বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর দাবিতে একসঙ্গে সরব হয়েছে দেশটির চারটি প্রদেশ আলবার্টা, অন্টারিও, কুইবেক ও সাস্কেচুয়ান। এ বিষয়ে তারা ফেডারেল সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথ, অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড, কুইবেকের প্রিমিয়ার ফ্রাসোয়াঁ লেগু এবং সাস্কেচুয়ানের প্রিমিয়ার স্কট মো যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তারা বিচারক নিয়োগে প্রাদেশিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

- Advertisement -

চিঠিতে প্রিমিয়াররা বলেছেন, বর্তমানে ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রদেশগুলোর সরাসরি ভূমিকা নেই বললেই চলে। অথচ প্রদেশভিত্তিক বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করে স্থানীয় বাস্তবতা ও চাহিদার ওপর।

ড্যানিয়েলে স্মিথ বলেন, “প্রদেশগুলো যদি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে, তাহলে জনগণের চাহিদা আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হবে। এতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে।” প্রিমিয়ারদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রদেশগুলো তাদের নিজস্বভাবে প্রার্থীদের সুপারিশ করবে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ফেডারেল সরকার সুপিরিয়র ট্রায়াল কোর্ট ও কোর্ট অব আপিলে বিচারক নিয়োগ দেবে।

এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিচারক নিয়োগে দ্বিভাষিকতার (ইংরেজি ও ফরাসি) শর্ত। স্মিথ এই শর্ত শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, এই বাধ্যবাধকতা পশ্চিম কানাডার অনেক যোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। বিশেষ করে আলবার্টা ও অন্যান্য পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে ফরাসি ভাষাজ্ঞান তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এই অসন্তোষ নতুন নয়। গত মাসেই স্মিথ প্রথম এই বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি এই বিষয়ে পরিবর্তন আনা না হয়, তাহলে প্রদেশ নতুন বিচারক নিয়োগের জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখতে পারে। এটি মূলত ফেডারেল ও প্রাদেশিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনেরই একটি নতুন অধ্যায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, ফেডারেল সরকার এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকার এই মুহূর্তে বিষয়টি বিবেচনা করছে না এবং এ নিয়ে কোনো মন্তব্যও দেবে না। এই ইস্যুতে মূল প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে বিচারক নিয়োগ কি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণেই থাকবে, নাকি প্রদেশগুলোকে আরও ক্ষমতা দেওয়া হবে?

একদিকে, ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বর্তমান ব্যবস্থা বিচার ব্যবস্থার একতা ও মান বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে, প্রদেশগুলোর দাবি স্থানীয় বাস্তবতা বোঝার জন্য তাদের সম্পৃক্ততা জরুরি। এই বিতর্ক কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিকও। কারণ, বিচারক নিয়োগের ওপর প্রভাব বিস্তার মানে ভবিষ্যতের বিচারব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখা।

সব মিলিয়ে, বিষয়টি এখন কানাডার ফেডারেল-প্রাদেশিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। সামনে এই ইস্যুতে আরও রাজনৈতিক আলোচনা ও চাপান-উতোর বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ

- Advertisement -

Read More

Recent