জাতীয় বন্যা বিমা কর্মসূচির ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন না মন্ত্রী

Aerial view of a rural area with floodwater covering roads, yards, and fields around homes and farms.
জাতীয় বন্যা বিমা কর্মসূচি চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি

কানাডায় জাতীয় বন্যা বিমা কর্মসূচি চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ফেডারেল ইমার্জেন্সি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ইলিয়ানর ওলসজিভস্কি মঙ্গলবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি চালু করা হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা সরকার দিতে পারছে না।

পার্লামেন্ট হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ইতোমধ্যে বন্যা পূর্বাভাসের আওতায় থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর ও টেকসই বন্যা বিমা কর্মসূচি গড়ে তোলা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। তার ভাষায়, “এটি শুধু একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং অবকাঠামো, আর্থিক কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত একটি কঠিন বিষয়।”

- Advertisement -

মন্ত্রী আরও জানান, সরকার এখনও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, কীভাবে একটি টেকসই বিমা কাঠামো তৈরি করা যায় যা একই সঙ্গে কার্যকর, সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে সক্ষম তা নির্ধারণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই প্রসঙ্গে স্মরণযোগ্য যে, ২০১৯ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রথম জাতীয় বন্যা বিমা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য একটি সাশ্রয়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

২০২৩ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। পরে সরকার ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, সেই সময়সীমাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, ২০২২ সালে কানাডার টাস্কফোর্স অন ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড রিলোকেশন এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটিতে আবাসিক এলাকায় বন্যার কারণে বার্ষিক গড় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। এই ক্ষতির মধ্যে বিমাকৃত ও বিমাহীন উভয় ধরনের ক্ষতিই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং চরম আবহাওয়ার কারণে এই ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

তবে এত বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো জটিলতার কথা মন্ত্রী বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। তিনি শুধু জানান, সরকার ইন্স্যুরেন্স ব্যুরো অব কানাডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।

কানাডায় জাতীয় বন্যা বিমা কর্মসূচি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি ক্রমশ বাড়লেও, নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে আরও সময় নিতে হচ্ছে। ফলে বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা কবে চালু হবে তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ

- Advertisement -

Read More

Recent