
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক বিস্তৃত ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে লাখো দর্শকের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নগর কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে যা শহরের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরীক্ষারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুন থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ এই শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, টরন্টোতেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে মাঠে নামবে কানাডার পুরুষ ফুটবল দল। ফলে স্থানীয় দর্শকদের আগ্রহ ও উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ টরন্টো সেক্রেটারিয়েটের নির্বাহী পরিচালক শ্যারন বোলেনবাক জানিয়েছেন, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দর্শক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব পক্ষের জন্য একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষায়, “শহরের ভেন্যু ও আশপাশের এলাকায় আগত সবাই যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে, সেটিই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে গণপরিবহন ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামাল দিতে ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে ট্রানজিট ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এজন্য বাস, ট্রাম ও মেট্রো সেবার সময়সূচি ও সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে ম্যাচের দিনগুলোতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হতে পারে। এক্সিবিশন প্লেস সংলগ্ন স্টেডিয়াম এলাকায় এবং ফোর্ট ইয়র্ক ন্যাশনাল হিস্টোরিক সাইটে আয়োজিত ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল ঘিরে পার্কিং সুবিধাও সীমিত করা হবে। একইসঙ্গে বেন্টওয়ে এলাকাতেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।
পরিকল্পনায় হাঁটা ও সাইকেল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা মনে করছেন, কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানকারী দর্শকদের জন্য এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর সমাধান হতে পারে। তবে রাইড-শেয়ারিং সেবাগুলো সীমিত রাখা হবে, যাতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
শুধু যাতায়াত নয়, পরিকল্পনায় জরুরি সেবা সচল রাখা এবং শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরুরি যানবাহনের জন্য আলাদা করিডোর নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
প্রতি ম্যাচে টরন্টোর স্টেডিয়ামে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ২২ দিনব্যাপী ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে টরন্টোর এই পরিকল্পনা কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজনের প্রস্তুতি নয়, বরং একটি বৃহৎ নগর ব্যবস্থাপনা কৌশলের উদাহরণ। গণপরিবহননির্ভর এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে এটি একটি মডেল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
