
কানাডার ডাকব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগের মধ্যেই গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ডাক সংস্থা কানাডা পোস্ট নিশ্চিত করেছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে চালু থাকা রাস্তার পাশের মেইলবক্সের মাধ্যমে যেসব পরিবার নিয়মিত ডাকসেবা পেয়ে থাকে, তাদেরকে আপাতত হোম ডেলিভারি পরিবর্তনের পরিকল্পনার বাইরে রাখা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে আর্থিক চাপে থাকা কানাডা পোস্ট তাদের খরচ কমাতে এবং সেবাকে আরও টেকসই করতে একটি বৃহৎ রূপান্তর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৪০ লাখ ঠিকানায় সরাসরি বাড়িতে মেইল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয় এবং চিঠিপত্রের ব্যবহার কমে যাওয়া যেখানে ডিজিটাল যোগাযোগ দ্রুত ডাকসেবার জায়গা দখল করছে। ফলে, কম খরচে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে “কমিউনিটি মেইলবক্স” ব্যবস্থাকে বিস্তৃত করার দিকে ঝুঁকছে সংস্থাটি। তবে এই পরিবর্তনের ঢেউ গ্রামীণ এলাকাগুলোতে আপাতত পৌঁছাবে না। কানাডা পোস্ট জানিয়েছে, তাদের মোট ১ কোটি ৭৮ লাখ সেবা-প্রাপ্ত ঠিকানার মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ঠিকানা অর্থাৎ প্রায় ৪ শতাংশ গ্রামীণ রাস্তার পাশের মেইলবক্সের ওপর নির্ভরশীল।
এই অঞ্চলগুলোতে কমিউনিটি মেইলবক্স চালু করা হলে বাসিন্দাদের অনেক দূরত্ব অতিক্রম করতে হতে পারে, যা বাস্তবিক অর্থে বড় ধরনের অসুবিধা তৈরি করবে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চিঠি সংগ্রহ করতে হবে যা বিশেষ করে বয়স্ক ও দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য কষ্টসাধ্য।
এক বিবৃতিতে কানাডা পোস্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “যেসব গ্রাহক বর্তমানে গ্রামীণ মেইলবক্সের মাধ্যমে ডাকসেবা পাচ্ছেন, তারা এই মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন অনুভব করবেন না।” অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে ঘোষিত পরিকল্পনা থেকে এই ঠিকানাগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান পর্যায়ে তাদের কমিউনিটি মেইলবক্সে রূপান্তরের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
এদিকে বৃহত্তর সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি কমিউনিটির প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ঠিকানাকে এই পরিবর্তনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই রূপান্তরের প্রভাব পড়বে কানাডার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে, যেমন: ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, অন্টারিও, ম্যানিটোবা, কুইবেক এবং নিউ ব্রান্সউইক। এই ধাপটি মূলত পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের আগে কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।
গ্রামীণ বাসিন্দাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক স্বস্তির হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয় এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, কানাডা পোস্টের আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে গ্রামীণ এলাকাগুলোকেও এই সংস্কারের আওতায় আনা হতে পারে। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তটি নীতিনির্ধারকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির প্রতিফলন শহর ও গ্রামাঞ্চলের অবকাঠামোগত পার্থক্যকে একভাবে বিবেচনা করা যায় না।
সার্বিকভাবে বলা যায়, কানাডা পোস্টের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন আধুনিকায়নের প্রয়াস, অন্যদিকে তেমনি গ্রামীণ বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখার একটি ভারসাম্যপূর্ণ চেষ্টা। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসে কি না এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য আরও টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় কি না।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ
