অন্টারিও হুমকিতে

অন্টারিওর জনস্বাস্থ্য বিভাগের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা কিয়েরান মুর

৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই অন্টারিওতে নতুন করে কোভিড রোগীর সংখ্যা দৈনিক ১০ হাজারে পৌঁছে যেতে পারে। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা খাত রক্ষায় নতুন করে ধারণক্ষমতার সীমা আরোপ করা হতে পারে। সেই সঙ্গে ব্যাপকভিত্তিতে তৃতীয় ডোজ প্রদান করতে হবে অন্টারিওর সায়েন্স অ্যাডভাইজরি টেবিল জানিয়েছে।
অন্টারিও সায়েন্স অ্যাডভাইজরি টেবিলের সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ড. পিটার জুনি সিটিভি নিউজ টরন্টোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ওমিক্রনের কারণে প্রতি তিন দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুনে উন্নীত হওয়ার হিসাবের ভিত্তিতে দৈনিক ১০ হাজার নতুন রোগীর হিসাবটি অত্যন্ত সঠিক। তবে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে গেলে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জুনির এই সতর্কতার আগে গত মঙ্গলবার অন্টারিওর জনস্বাস্থ্য বিভাগের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. কিয়েরান মুর বলেন, ওমিক্রনের কারণে প্রদেশজুড়ে ধারাবাহিক জনস্বাস্থ্য বিধিবিধান গ্রহণ করতে হতে পারে।
ড. পিটার জুনি বলেন, মূল বিষয় হলো সংক্রমণের রেখাটি নিম্নমুখি রাখতে আপনাকে অনেক কিছু করতে হবে। এখন এটি বাড়তির দিকে। এটাকে তুলনামূলকভাবে সমতলে রাখতে এবং দীর্ঘদিন তা একই অবস্থায় রাখতে হলে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রায় ৫০ শতাংশকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজের আওতায় আনতে হবে। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আপনি যদি সেটা করতে পারেন তাহলে খুবই ভালো কথা। এটা স্থায়ী নয়। তবে আপনি জানেন যে এটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এবং আগামীতে কি ঘটতে যাচ্ছে আমরা কেউই তা জানি না। সুতরাং ওমিক্রনের ক্ষতি মৃদু হোক বা সমস্যাজনক না হোক আমাদের এটাকে থামাতে হবে। অবশ্যই এটা একটা সমস্যা। এটা যদি অর্ধেকও মারাত্মক হয় তাহলেও তা আমাদের কোনো সাহায্যে আসবে না।
অন্টারিওতে সাতদিনের গড় সংক্রমণ ৫০ শতাংশ বেড়ে দৈনিক ১ হাজার ৫১৪ জনে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি তিনদিনে দ্বিগুনে পরিণত হচ্ছে। সুতরাং গত এপ্রিলে তৃতীয় ঢেউয়ের সময় অন্টারিও যে সংক্রমণ দেখেছিল তা ছাড়িয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র।
অন্টারিও জনস্বাস্থ্য বিভাগের নতুন এক প্রতিবেদন বলছে, প্রদেশে প্রতিদিন যত সংখ্যক মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হচ্ছে তার ৮০ শতাংশই ওমিক্রনের কারণে। এছাড়া ২৮ নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্টারিওতে ওমিক্রনে আক্রান্ত যতজনকে সনাক্ত করা গেছে তাদের প্রত্যেকেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ গুন বেশি মানুষকে সংক্রমিত করেছে। এ থেকেই বোঝা যায় প্রদেশ কতটা হুমকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনের লেখকরা বলেছেন, ওমিক্রনের দ্রুত সংক্রমণ থামাতে প্রদেশের উচিত দ্রুত জনস্বাস্থ্য বিধিবিধান আরোপ করা। যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের সুপারিশ তারা করেননি।
This article was written by Rezaul Haque as part of the Local Journalism Initiative.

- Advertisement -

Read More

Recent