জেনারেশন জেড

জেনারেশন জেড

আমি বাংলাদেশের জেনারেশন জেডের সবাইকে প্রগতিশীল, আধুনিক,বিজ্ঞানমনস্ক এবং প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন বলে মনে করি না।

এই না মনে করার কারন মূলত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা।

- Advertisement -

কত পার্সেন্ট আসলে প্রকৃত মেধাবী জেনারেশন জেড তা বলা মুশকিল। কারন, এই ক্ষেত্রে কোন পরিসংখ্যান নেই।কোন গবেষনাও নেই।

তবে কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় পানি বিতরনরত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধকে আমার কাছে প্রকৃত পক্ষে মেধাবী, প্রগতিশীল, আধুনিক,বিজ্ঞানমস্ক এবং প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন জেনারেশন জেড বলে মনে হয়েছে। অন্তত এই পর্যন্ত তার যে সব তথ্য পেয়েছি তাতে মুগ্ধ সম্পর্কে আমার মুল্যায়ন এমনই। এই মেধাবী ছেলেটি হাইলি স্কিড। যে কোন বিশ্ব মানের মেধাকে সে কমপিট করার ক্ষমতা রাখতো।তার ট্র্যাক রেকর্ড ঘেটে ছেলেটিকে আমার অসাধারন এক তারুণ্য শক্তি বলে মনে হয়েছিল। মুগ্ধকে অসম্ভব ভালো লেগেছিল বলেই সেই সময় আমার ফেসবুকে তাকে নিয়ে লেখেছিলাম। এখনো কানে বাজে তার কন্ঠ,’পানি লাগবে ,পানি?”

কথা হচ্ছে, জেনারেশন জেড এর সবাই কি মীর মুগ্ধের মতো একই মানদন্ডের মেধা ধারন করে? কিংবা কাছাকাছি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুব সম্ভব “না” হবে।

বাংলাদেশের এই জেনারেশন জেড মিক্সড হবার সম্ভাবনাই বেশি।

এই মিক্সড জেনারেশনটা আসলে কারা?

বাংলাদেশের জেনারেশন জেড এর বিরাট অংশ প্রাইভেট কলেজ, ইউনিভার্সিটি গুলিতে পড়া-লেখা করে। এই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলি থেকে জেনারেশন জেড কি ধরনের শিক্ষা পায়? সেই প্রাইভেট শিক্ষাব্যবস্থা কি কোন শিক্ষার্থীকে আধুনিক, প্রগতিশীল, প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন মেধাবী হিসাবে গড়ে তোলে, নাকি তার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়? এই প্রশ্নগুলি করা খুব প্রাসঙ্গিক।

এর সংগে আবার যুক্ত হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সব বিষয়গুলিই পড়ানো হয়। বিজ্ঞান থেকে শুরু করে সব বিষয়ই এখানে পঠিত হয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, এই সব বিজ্ঞানের বিষয় আর আধুনিক শিক্ষা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকলেই তো হবে না। শিক্ষকরা মাদ্রাসাগুলিতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে।

বাংলাদেশে যেমন প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থী আছে ,আবার একই সাথে অশিক্ষা-কুশিক্ষা পাওয়া শিক্ষার্থীও আছে। আছে কুসংস্কারাচ্ছ ধর্মান্ধ প্রগতিবিরোধী শিক্ষার্থী।

২০১৬সালে বাংলাদেশে হলি আর্টিজেনের নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল । খুব সম্ভব সেই দিনটি ছিল জুলাই মাসের ১ তারিখ। বিদেশীসহ ২২ জনকে সেই সময় নির্মমভাব হত্যা করা হয়েছিল। আর এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল বাংলাদেশের ইংলিশ মিডিয়ামের কিছু ছাত্র। এই ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া ছাত্রগুলি নিহতদের কাছ থেকে কোরআনের আয়াত বলতে বলেছিল , যারা বলতে পারেনি তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল । এদের হাতে ছিল একে৪৭ রাইফেল। তাহলে কথা হচ্ছে, এই ইংলিশ মিডিয়ামের ছেলেগুলি জঙ্গি হয়ে উঠেছিল কিভাবে? তাদের ব্রেইনওয়াসের কারিগর করা ছিল? পরে অবশ্য ইসলামী স্টেট এই হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছিল। যদিও হলি আর্টিজেনের ঘটনা ঘটেছিল বহু আগে ,আজ থেকে ৮ বছর আগে । ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন হলেও এর থেকে বোঝা যায়, জেনারেশন জেডকে এইভাবে ব্যবহার করা যায়। সেই সময় তাদেরে হাতে অস্রও বা এসেছিল কোথা থেকে? এই নিয়ে ভারত,বাংলাদেশে মুভি হয়েছে কিন্ত ছেলেগুলি কিভাবে এই পথে আসলো তা নিয়ে কোন গবেষনা হয়নি।

তাই আমরা কিন্তু জেনারেশন জেডের মধ্যে একদিকে যেমন মীর মুগ্ধকে পাই ,আবার তেমনি অন্যদিকে একটি ভিন্ন রকমের জেনারেশন জেডকেও দেখতে পাই ।

তাই জেনারশন জেড নিয়ে আমার অনুভূতি খুব মিশ্র।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent