
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নানাইমোতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছে লিবারেল ককাস। সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে এটা তাদের রিট্রিট। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলে আসছেন, আগামী নির্বাচনে তিনি দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। জনমত জরিপে কানাডিয়ানদের মধ্যে লিবারেলরা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা সত্ত্বেও।
প্রশ্ন হচ্ছে তিনি পদত্যাগ করবেন? উত্তর হচ্ছে অবশ্যই। তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন অনেক বেশি কঠিন হবে। নিউ ডেমোক্র্যাটরা সাপ্লাই অ্যান্ড কনফিডেন্স চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে। এই চুক্তিটিই সংখ্যালঘু লিবারেল সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিল। ট্রুডো যদি পদত্যাগ করেন তাহলে নিউ ডেমোক্র্যাটরা কনজার্ভেটিভদের সঙ্গে অনাস্থা ভোট দিতে পারে, যা নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করবে। তখন নির্বাচনে লড়ার জন্য লিবারেল পার্টি নেতৃত্বশূণ্য হয়ে পড়বে।
তাহলে তিনি পদত্যাগ করলে কী হবে? অন্তবর্তী নেতা নিয়্গো দেওয়া হবে এবং নতুন নেতা খোঁজার প্রতিযোগিতা শুরু হবে। জাতীয় প্রেসিডেন্ট পার্টির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ২৭ দিন সময় পাবেন। এ ছাড়া নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোট আয়োজনে লিডারশিপ ভোট কমিটিকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার আয়োজন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
কত দ্রুত নতুন নেতার নাম ঘোষিত হবে? সাধারণত এটা দ্রুতগতির কোনো পদ্ধতি নয়। পাঁচ মাসের প্রচারণার পর জিতেছিলেন ট্রুডো। কিন্তু পরিকল্পনা চলেছিল কয়েক বছর ধরে।
তার সঙ্গে তুলনা করলে ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর স্টিফেন হারপার পদত্যাগ করলে নতুন নেতা নির্বাচনে কনজার্ভেটিভদের সময় লেগেছিল দুই বছর। ২০২২ সালের ভোটের মাধ্যমে পিয়েরে পয়লিয়েভর কনজার্ভেটিভ নেতা হয়েছেন সেজন্যও সময় লেগেছে আট মাস।
লিবারেল পার্টির গঠনতন্ত্রে যেকোনো সম্ভাব্য মনোয়ন প্রক্রিয়ার রূপরেখা বলে দেওয়া আছে। নেতৃত্বের দৌড়ে সামিল হওয়ার জন্য ভোটের আগে অন্তত ৯০ দিন সময় পাবেন তারা। নিবন্ধিত লিবারেলদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৩০০ স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে তাদের। এর মধ্যে ১০০টি স্বাক্ষর আসতে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশের লিবারেলদের কাছ থেকে।
ট্রুডো পদত্যাগ করলে তার কাজ কি শেষ হবে? হবে। তবে সংখ্যালঘু সরকার হওয়ায় ও আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় কাজটা জটিল হবে। এনডিপি নেতা জাগমিত সিং এটা স্বীকার করেছেন যে, আগামী নির্বাচন ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার তার খানিকটা আগেও হতে পারে।
এর আগে কি কোনো প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন? উত্তর হচ্ছে, হ্যা। সাবেক অর্থমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পল মার্টিনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ২০০২ সালে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী জাঁ শ্রেটিয়েন। পরবর্তী নির্বাচনে লিবারেলদের নেতৃত্ব দেবেন না বলে ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ নেতা হিসেবে পদত্যাগ করেন ব্রায়ান মালরোনি। মালরোনির মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারন স্থলাভিষিক্ত হন।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
