
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এক কিশোর এইচ৫এন১ এভিয়ান ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কানাডাতে এটাই ভাইরাসটির মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার প্রথম ঘটনা।
প্রাদেশিক সরকার বলেছে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রধান ভেটেরিনারিয়ান এবং জনস্বাস্থ্য টিম এখনো এই সংক্রমণের উৎস খুঁজে দেখছে। তবে এটা খুব সম্ভবত কোনো প্রাণী বা পাখি থেকে সংক্রমিত হয়েছে।
মানুষ থেকে মানুষে বিস্তারের ঘটনা খুবই বিরল। কিন্তু প্রাণীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অনেকেই এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে, ভাইরাসটি হয়তো সেই সক্ষমতা তৈরি করে নিতে পারে।
আক্রান্ত ওই কিশোরকে বিসি চিলড্রেন’স হসপিটালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্টারিওর হ্যামিল্টনের ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির মাইকেল জি. ডিগ্রুট ইনস্টিটিউট ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চের পরিচালক ডা. ম্যাথিউ মিলার বলেন, আক্রান্ত ওই কিশোরের জন্য আমি অবশ্যই খুবই উদ্বিগ্ন।
একই সঙ্গে কানাডিয়ান মহামারি প্রস্তুত কেন্দ্রেরও সহ-সমন্বয়ক মিলার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকজন এইচ৫এনও ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে এবং তাদের প্রায় সবাই লাইভস্টক কর্মী।
পাবলিক হেলথ এজেন্সি অব কানাডা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মুহূর্তে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম।
এইচ৫এন১ ইনফ্লয়েঞ্জা এ ভাইরাসের একটি উপ-ধরন, যা প্রধানত পাখিদের সংক্রমিত করে। এ কারণেই একে বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ফ্লু বলা হয়ে থাকে। চলতি বছর পাখি এবং গবাদিপশুর মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এইচ৫এন১ ফ্লু হচ্ছে হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচপিএআই) নামে পরিচিত এক ধরনের এভিয়ান ফ্লু স্ট্রেইন। পোল্ট্রিসহ পাখিদের গুরুতর অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই ভাইরাস।
বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুই দশকের বেশি সময় ধরে এইচ৫এন১ বন্য পাখি ও পোল্ট্রির মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে।
বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার উপায় হিসেবে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে পাবলিক হেলথ এজেন্সি অব কানাডা। তারা বলেছে, সাধারণ সতর্কতা হিসেবে লোকজনের খালি হাতে জীবিত অথবা মৃত বন্য পাখি বা অন্যান্য বন্যপ্রাণি ধরা উচিত নয়। সেই সঙ্গে পোষা প্রাণীদের অসুস্থ বা মৃত প্রাণিদের থেকে দূরে রাখতে হবে। যারা প্রাণিদের নিয়ে কাজ করেন অথবা প্রাণিদের দ্বারা দূষিত স্থানে থাকেন তাদের উচিত ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
