আমাদের গল্পমালা

আমাদের গল্পমালা

মাত্র কিছুক্ষণ আগে আমার চার বোনের সঙ্গে গল্প করলাম। আমাদের গল্পের বিষয় একটিই আম্মা-আব্বা৷

আমার মায়ের জন্ম ইকরাম গ্রামে। মায়ের বড় সন্তান হিসেবে আমারও জন্ম হয়েছে নানাবাড়িতে ইকরামে। আব্বা দূরের এক জেলায় চাকুরী করতেন। ফলে ইচ্ছে করলেই যখন তখন নানাবাড়িতে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাছাড়া অর্থ সংকুলানের ব্যাপারটি তো ছিলই। বছরে বা দুইবছর অন্তর নানা বাড়িতে গেলে আমরা প্রায় মাস খানেক থাকতাম।

- Advertisement -

ইকরাম গ্রামটি একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেই গ্রাম থেকে কেউ শহরে গেলে পাঁচকান হয়ে সবার জানাজানি হয়ে যেত। অর্থাৎ এই গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবীকা নির্বাহ ছিল গ্রামকে বা মাঠের জমিকে কেন্দ্র করেই। ফলে এক মাস অতিবাহিত করা ইকরাম জীবনে আমাদেরকে আদর স্নেহ করা মুখগুলো বড় আপন হয়ে যেতেন। এদেরকে ছেড়ে আসতে মর্মমূল ছিঁড়ে যেত।

বাড়ির ঘাটায় লাইন ধরে দাঁড়ানো মুখে চেয়ে দেখতাম অশ্রু। শাড়ির আঁচলে লুকিয়ে কেউ কেউ অশ্রু মুছে নিতেন। আমরা ভাইবোনেরা গল্প করতে বসলেই সেই পুরনো মায়াবী মুখগুলো বারবার উঁকি দেন। এরা আম্মাকে ও আমাদেরকে স্নেহ মমতায় ভরিয়ে রেখেছিলেন। তাঁদের স্মরণ করলে যেন আমরা অনুভব করি, দূর থেকে আম্মাও খুব খুশি হয়ে মনোযোগ দিয়ে আমাদের গল্প শুনছেন। প্রতিবার এইসব গল্প করতে গেলেই আমার কান্না আসে। কান্নার অশ্রুজলে আমার বুক থেকে কত রকমের ভারি পাথর নেমে যায়। আজও তাই হলো এই তো কিছুক্ষণ আগে।

গল্প শেষ করে ফেইসবুক খুলেই দেখি অসুস্থ আম্মাকে দেখতে যাওয়ার পরদিন আমাদের গ্রামের বাড়ি তেতৈয়া যাওয়ার স্মৃতির পাতা।

এইছবি এও মনে করিয়ে দেয়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে আম্মা ইহজীবন ত্যাগ করেন। কিন্তু আমাদেকে ছেড়ে যাননি। যাবেন না কোনোদিন।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent