
ক্যালেন্ডারের পাতায় এক বছর আগে কানাডিয়ান আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকরা ২০২৩ সালে খাতটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী ছিলেন। বসন্তের মধ্যেই চাহিদা বাড়তি প্রত্যাশা করেছিলেন তারা।
কিন্তু ২০২৪ সালের শ্লথতা প্রত্যাশার চেয়েও দীর্ঘ ছিল। কারণ, ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার কর্তনের জন্য জুন পর্যন্ত অপেক্ষ করে ছিল। এই ফলে ক্রেতারা বাজারে ফিরতে শুরু করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম কয়েক দফা সুদের হার কর্তন বাজারের বাইরে থাকা সবাইকে টেনে আনার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
আমরা যখন ২০২৫ সালে প্রবেশ করছি তখন অর্থনীতিবিদ ও আবাসন খাতের এজেন্টদের বিশ^াস, ঋণের কম সুদের হারের ফলে বাজারের কার্যক্রম শক্তিশালী হওয়ার পথে রয়েছে। অধিকতর সহায়ক নিয়মও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এমনটা প্রত্যাশা করছেন তারা।
ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দ্য কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল, নভেম্বরে বাড়ি বিক্রি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসে এই পর্যায়ে বিক্রি বাড়ল। ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে সার্বিক বাড়ি বিক্রি বেড়েছে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
রি/ম্যাক্স কানাডার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টোফার আলেক্সান্ডার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো প্রথমবারের মতো যারা বাড়ি কিনেত চান তারা বাজারে ফিরেছেন এবং তারা বাজারে প্রবেশ অব্যাহত রাখতে যাচ্ছেন। কার্যক্রম ও ভোক্তাদের আস্থার নিরিখে সার্বিকভাবে আমরা শক্তিশালী একটি বছর দেখতে যাচ্ছি। বিশেষ করে সুদের হার আরও কর্তনের সম্ভাবনা যখন দেখা যাচ্ছে।
ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে ব্যাংক অব কানাডা নীতিনির্ধারণী সুদের হার ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে, যার ফলে বর্তমানে সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এটা নতুন বছরে পর্যায়ক্রমে সুদের হার আরও কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রি/ম্যাক্সের ২০২৫ সালের আবাসন বাজারের আউটলুক প্রতিবেদনে বলছে, কানাডার ৩৭টি অঞ্চলের মধ্যে ৩৩টিতেই নতুন বছরে বাড়ি বিক্রি বাড়বে বলে মনে করছে তারা। এই বৃদ্ধি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সেই সঙ্গে জাতীয়ভাবে বাড়ির গড় দাম বাড়বে ৫ শতাংশ।
সিআরইএর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে জাতীয়ভাবে কানাডায় বাড়ির গড় দাম ছিল ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪১১ ডলার।
টিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডায় বাড়ি বিক্রি বাড়তে পারে ২০২৪ সালের তুলনায় ১৬ শতাংশ। একইসঙ্গে কানাডায় বাড়ির গড় দাম বাড়তে পারে ৮ শতাংশ।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
