
নাতাশা বইঘরে যাবার শর্টকাট গলির রাস্তাটা ধরা মাত্রই তার হাতব্যাগের ভেতর থেকে মেসেজ টোন বেজে উঠলো। সে তাড়াতাড়ি ব্যাগের ভেতর থেকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে আপন মনে হেসে উঠলো সে। রাহেল মেসেজ দিয়েছে-
তুমি কি চকলেট খেতে পছন্দ করো? একটা পেশেন্ট বক্স ভর্তি চকলেট দিয়ে গেছে!
রাহেল গত পরশুদিন তার বাসায় এসেছিল। বইঘরের তালা লাগিয়ে সন্ধ্যেবেলা সে যখন বাসায় ফিরেছিল তখন। বেশিক্ষণ থাকেনি। যদি থাকতোও সে মাইন্ড করতো না। রাহেল সাথে থাকলে তার ভালো লাগে, সময়টাও বেশ ভালো কাটে।
রাহেল তার জন্য অনেক বড়ো একটা উপহার। কিছুদিনের পরিচয়। তবু রাহেল সাথে থাকলে তার মনের ভেতর কীরকম একটা তোলপাড় বয়ে যায় যা সে আগে কখনো অনুভব করেনি।
“চকলেট? ওয়াও! বইঘরে চলে আসো।”
মেসেজটা লেখা শেষ করা মাত্রই সে হঠাৎ একটা ধাক্কা খেলো। ছোট্ট একটা মেয়ে। মেয়েটা তার মায়ের পিছনে দৌড়ে দৌড়ে স্কুলের দিকে যাচ্ছিল। ধাক্কা খেয়ে মেয়েটা প্রায় পড়েই যাচ্ছিল কিন্তু নাতাশা তাকে শেষ মুহূর্তে ধরে ফেলায় রক্ষা। মেয়েটার মা ধমকে উঠলেন, “চোখ কোথায় রেখে এসেছো শুনি?” নাতাশা স্যরি বলে মেয়েটাকে তার মায়ের হাতে তুলে দিলো। আর নাতাশার কানে ভেসে এলো খিল খিল হাসি।
জরিনা পাগলি! জরিনাকে এই এলাকার সবাই চিনে। রাস্তায় রাস্তায় থাকে আর ভিক্ষে করে খায়।
ফোকলা দাঁত দেখিয়ে দেখিয়ে জরিনা হাসছে যেন সে এমন মজার ঘটনা এর আগে কখনো দেখেনি। “রাস্তায় হাঁটার সময় রাস্তায় তাকাতে হয় গো, রাস্তায় তাকাতে হয়। মোবাইলের দিকে না। হিহিহি।”
পাগলির কথা শুনে নাতাশার গা জ¦লে উঠলো। তবু সে কিছু বললো না। জারিনার সাথে কথা বলা শুরু করলে তাকে ভাত খাবার জন্য টাকা দিয়ে তারপর মুক্তি পেতে হবে। সে তাই দ্রæত তার বইঘরের দিকে পা চালালো। দশটা প্রায় বেজেই গেল। ব্যাপারটা এমন না যে বই কেনার জন্য ক্রেতারা লাইন ধরে আছে। ব্যাপারটা হলো সে কখনো তার লাইব্রেরি খুলতে দেরি করে না। প্রতিদিন দশটা বাজার দশ মিনিট আগে সে তার লাইব্রেরি খুলবেই খুলবে।
বইঘরের সামনে এসে নাতাশা থমকে দাঁড়ালো।
পুরো শাটারে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগ লেগে আছে! সামনের রাস্তার এক জায়গায়ও রক্তের দাগ জমাট হয়ে আছে।
সে এক পা পিছু হটে গেল। তার সারা শরীর কেঁপে উঠলো।
কে করলো এমন কাজ? কেন করলো? তার তো এমন কোনো শত্রু নেই।
যদি না…
না সেটা তো হবার কথা না। ঐ ব্যাপারটা কেউ জানে না। কেউ না।
কাঁপা কাঁপা হাতে সে ব্যাগ থেকে তার মোবাইল বের করে আনলো। ব্যাপারটা পুলিশকে জানানো উচিত। কতদিন ভেবেছে থানার নাম্বারটা জোগাড় করে রাখবে। করবে করবে বলেও সে নাম্বারটা জোগাড় করেনি। সেভ করেনি। এখন? ৯৯৯ তে কল করে পুলিশের সাহায্য চাওয়া যায় অবশ্য। নাহ! পুলিশ ডাকা কি উচিত হবে? তারা যদি…
নাতাশা পুলিশকে কেন যে এত ভয় করে!
পুলিশ চাইলে যাকে-তাকে জেলে নিয়ে ঢুকাতে পারে। যতদিন বেঁচে আছে সে জেলের বন্দী জীবন চায় না। বন্দী জীবন তার খুব অপছন্দ।
কিন্তু এমন ঘটনার কথা পুলিশে না জানানো ছাড়া উপায়ও নেই। পুলিশকে ডাকতেই হবে।
অধ্যায়: ১১ (বর্তমান)
“এটা তো রক্ত না। রঙ।” পুলিশের এসআই হাত দিয়ে শাটারের লাল দাগগুলো পরীক্ষা করে মতামত দিলেন। তিনি যথেষ্ট বিরক্ত হয়ে আছেন। এটা যে রঙ তা বুঝতে এসআই সাহেবের এক মিনিটও লাগেনি। অথচ নাতাশা নামের মেয়েটা এই শীতের সকালে তাকে অফিসের উষ্ণতা থেকে বের করে আনালো!
নাতাশা তার দুটো ভ্রু একসাথে করে বললো, “আপনি শিওর তো?”
তিনি কোনো রকমের দ্বিধা না করেই মাথা নাড়ালেন। “হান্ড্রেড পার্সেন্ট।”
“ওহ!” সে কপাল ভাঁজ করে এসআই সাহেবের দিকে তাকালো। “আমি তো ভেবেছিলাম…”।
নাতাশা শাটারের কাছাকাছি আসায় রঙের গন্ধ তার নাকে এসে লাগছে। অথচ দূর থেকে এই রঙকে রক্ত বলেই মনে হয়েছিল। কেবল সে কেন? দূর থেকে দেখলে যে কেউই এটাকে রক্ত ভাববে। তাহলে… কেউ কি চেয়েছে নাতাশা লাল রঙকে রক্ত ভেবে ভয় পাক? কিন্তু কেন? উদ্দেশ্য নেহাৎ মজা করা হলে তো অন্য কোনো রঙের ব্যবহার করতে পারতো। পৃথিবীতে কতশত রঙ আছে। তার মানে, যে বা যারা কাজটা করেছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই লাল রঙ ব্যবহার করেছে।
“এই এলাকায় অনেক দুষ্ট ছেলেপিলে আছে, যারা মজা করার জন্য এসব করে থাকে।” অফিসার এমন ভঙ্গিতে কথাটা বললেন যাতে তাকে তার বয়সের চেয়েও বেশি বয়স্ক বলে মনে হয়। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এসআই সাহবের দিকে তাকালো। তাকে দেখে মনে হচ্ছে ইনি পুলিশ ফোর্সে যোগ দিয়েছেন খুব বেশিদিন হয়নি। কিন্তু এমনভাবে কথা বলছেন যে যেন অবসরে যাবার আমার মাত্র মাস দুয়েক বাকি আছে। “আপনি এরকম ঘটনা প্রথম দেখেছেন বলে আমি বেশ অবাক হয়েছি।”
“হুম।” নাতাশা বিড়বিড় করলো।
“আমি রিপোর্টটা লিখে নিচ্ছি।” অফিসার তার নোটবুকে লেখা শুরু করলেন। “কিন্তু আপনার মনে রাখতে হবে এদিকটাতে এমন দুষ্টামি ছেলেরা হরহামেশা করে থাকে। একটু ভেবে দেখুন তারা কিন্তু কোনো ভাঙচূড় বা আপনার দোকানের অন্য কোনো ক্ষতি করেনি।”
নাতাশা জানে এসআই সাহেব হয়তো ভুল বলছেন না। কিন্তু নাতাশার কাছে পুরো ব্যাপারটা মোটেও মজা বলে মনে হচ্ছে না। হয়তো বা তিনি ঠিক কথাই বলছেন। হয়তো কোনো বাচ্চা ছেলে মজা করার জন্য এমনটা করেছে। তারপরও নাতাশার কেমন জানি লাগছে। তার বারবার মনে হচ্ছে কেউ তাকে ভয় দেখানোর জন্য এমনটা করেছে।
“ঐ যে পাগলিটা বসে আছে, সে হয়তো এ বিষয়ে কিছু জানে। আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন।”
“না।” জরিনা কোনো না কোনোভাবে সবসময় নাতাশাকে নার্ভাস করে দেয়। তাই সে আগ বাড়িয়ে কখনো তার সাথে কথা বলে না।
“তাহলে দাঁড়ান, একে একটু জিজ্ঞসাবাদ করে আসি।”
“প্লিজ না।” নাতাশা তাকে না করতে চাইলো। পুলিশ অফিসারটা তার রিপোর্ট লিখে ফেলেছে। নাতাশা চায় এখন সে চলে যাক। কিন্ত লোকটা জরিনা নামের একটা পাগলকে প্রশ্ন করতে তার কাছে চলে গেছে!
জরিনা ফুটপাতে তার অস্থায়ী ঘরে বসে আছে আর পুলিশের দিকে তাকিয়ে ফোকলা দাঁত বের করে হাসছে। নাতাশাও পুলিশের পিছু নিয়ে জরিনার কাছাকাছি চলে গেল।
“জরিনা, তুই কি কাল রাতে ঐ দোকানে কাউকে রঙ ছিটাতে দেখেছিস?”
একটো পচা গন্ধ এসে নাতাশার নাকে লাগছে। তবু সে যতটা সম্ভব জরিনার কাছে গেল। তার উত্তর সে শুনতে চায়। জরিনা নাতাশার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো। তারপর মাথা নাড়িয়ে বললো, “না গো না, আমি কিস্সু দেখিনি।”
“ঠিক করে বল! নাইলে তোকে জেলে নিয়ে যাবো।” অফিসার কঠিনভাবে জরিনাকে শাসালেন।
“না।” সে এবার আরো জোরে জোরে হাসতে থাকলো। বোধহয় তার মাথার ভেতরে কেউ হাসির কথা বলেছে।
জরিনা পাগলির পেট থেকে কোনো কথা বের করতে না পেরে পুলিশ অফিসার নাতাশার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। নাতাশা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো।
বুকস্টোরে ঢুকে চেয়ারে বসেই মোবাইল হাতে নিয়ে গুগলে ক্লিক করে লিখলো, দোকানের শাটার থেকে লাল রঙের কী করে মোছা যায়। গুগল মামা পরামর্শ দিলেন ভিনেগার দিয়ে খুব সহজেই রঙের দাগ মুছা যায়।
লাঞ্চের পর রুবি এলো। “বাহ! সারা স্টোর দেখি রঙিন হয়ে গেছে! কী ব্যাপার?”
“ব্যাপার কী আমি কিচ্ছু জানি না। সকালে এসে এই অবস্থা পাই। কাল রাতে কে না কে এসে রঙ লাগিয়ে গেছে। তুই কি এই রঙ তুলতে পারবি?”
রুবি তার ঠোঁট বা*কালো। “বলতে পারছি না। তবে আমার কাছে কিন্তু মন্দ লাগছে না।”
“মন্দ লাগছে না! কী বলিস?”
“হুম! থাক না। রঙ তো ভালো জিনিস। আনন্দের জিনিস।”
“ও বুঝতে পেরেছি। তুই আসলে আমাকে সাহায্য করতে চাচ্ছিস না। ”
“ তা হতে পারে। তুই তোর বয় ফ্রেন্ডকে বল না। এইচডি তোকে যা ভালোবাসে না, তুই বললে প্রয়োজনে সে তার টুথব্রাশ নিয়ে এসে রঙ মুছতে লেগে যাবে, আমি শিওর।””
“আমি জানি তাকে বললেই সে হেল্প করবে। তোরা মতো এড়িয়ে যাবে না অন্তত।” নাতাশা হাসলো। তবে টুথব্রাশ নিয়ে আসবে কি না এ নিয়ে তার সন্দেহ আছে।
তবে নাতাশা চায় না এই ঘটনাটার কথা রাহেল জানুক। “প্লিজ রুবি, এই স্টোরটা তো তোরও তাই না?”
“ওকে। তবে বিনিময়ে কিন্তু আমাকে স্যান্ডউইচ খাওয়াতে হবে।”
“ঠিক আছে। খাওয়াবো।”
“প্রমিজ?”
“হুম প্রমিজ।”
রুবি তার হাতব্যাগ থেকে লিপস্টিক বের করে ঠোঁটে লাগাতে লাগতে বললো, “আমার মনে হয় স্যান্ডইউচটা এখানে তৈরি করলেই ভালো হবে।”
“এখানে? স্যান্ডউইচ বানাবো এখানে?”
“হুম। তবে আমার জন্য বলছি না। আমি বলছি স্যান্ডউইচ বানিয়ে বিক্রি করার জন্য। আমাদের এটা হবে বুকস্টোর কাম স্যান্ডউইচ শপ।”
নাতাশার চোখদুটো বাস্তবিক অর্থেই কপালে উঠলো।“মাথার ঠিক আছে তোর?”
“এটা খুব ভালো একটা আইডিয়া। মানুষ বই পড়ার সময় খেতে ভালোবাসে। বই পড়ার জন্য না এলেও অন্তত স্যান্ডউইচ খাবার জন্য হলেও এখানে আসবে।”
“আমি এমন কোনো স্যান্ডউইচ বানানো জানি না, যা খেয়ে লোকে আমাকে টাকা দেবে।”
“স্যান্ডউইচ কিন্তু খুব সোজা। কালকে একটা কফি শপে গিয়েছিলাম। আমার চোখের সামনে দুই মিনিটে স্যান্ডউইচ বানিয়ে দিলো। আমরাও পারবো।”
“আমি সেটা জানি না।” নাতাশা তার মাথা নাড়ালো। “আমার মনে হয় না এই আইডিয়াটা কাজে দেবে।”
“ঠিক আছে। তাহলে দেখি, তুই একটা ভালো আইডিয়া দে।” সে বুকস্টোরের চারদিকে তার চোখ ঘুরাতে ঘুরাতে বললো “না হলে এই স্টোরটার কিন্তু লাল বাতি জ¦লবে।”
রুবি সত্যি কথাই বলেছে। যদিও নাতাশা এটা স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু রুবি আসলেই সঠিক।
এই পৃথিবীতে নাতাশা ছাড়া একমাত্র রুবিই বইঘর নিয়ে ভাবে। প্রথম যেদিন নাতাশা তার বুকস্টোরের কথা বলে রুবি সাথে সাথে নাতাশার পার্টনার হতে রাজি হয়ে গিয়েছিল। রুবি বই ভালোবাসে। তাই রুবিও তখন এই ব্যবসাটা নিয়ে বিরাট পরিকল্পনা করে ফেলেছিল।
কিন্তু বাস্তব তো আর ফ্যান্টাসি না। যখন দু’জন একসাথে হয়েও বুকস্টোরের সেল বাড়াতে পারলো না তখন রুবি আরেকটা পার্ট টাইম জব শুরু করলো। নাতাশা অবশ্য রুবিকে বলেছে যে, সে যদি বুকস্টোরের ব্যবসাটা ছেড়ে যেতে চায় তাহলে সেটা সে পারবে। কিন্তু রুবি ছাড়ে নি। দিনের শেষভাগে এসে সে রুবিকে সাহায্য করে। “আমি জানি একদিন এই বুকস্টোরটা অনেক বড়ো কোনো ব্যবসায় পরিণত হবে।” রুবি মাঝে মাঝে বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই কথাটা বলে।
আসল কথাটা রুবি জানে না। যে কারণে এখনো বইঘর টিকে আছে সেটা রুবির সম্পূর্ণ অজানা। কারণটা কখনো সে রুবিকে জানাতেও পারবে না।
বইঘরের দরজাটা ক্যাচক্যাচ শব্দ করে উঠলো। নিশ্চয়ই কোনো কাস্টমার! আজকের দিনের দ্বিতীয় কাস্টমার। তার মানে, লাল রঙ তাহলে কাস্টমারকে বিকর্ষণ করছে। রুবিকে ব্যাপারটা জানাতে হবে।
দরজা খুলে যে প্রবেশ করলো সে একটা কম বয়সের ছোকরা। এই বয়সের ছোকরারা বইয়ের ভালো ক্রেতা না। এরা সম্ভবত বই পড়ে না অথবা তারা কেবল পিডিএফ পড়ে।
“আপনাদের এখানে কি হিউমান এনাটমি নিয়ে কোনো বই আছে?”
নাতাশা যা ভেবেছিল তাই। এই ছেলেটা মাত্র মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছে।
“আমাদের এখানো কোনো ডাক্তারি বই পাওয়া যায় না।” রুবি হাসি মুখে তথ্যটা জানালো। “তবে আমি আপনাকে অন্য কিছু দেখাতে পারি যা আপনি পছন্দ করবেন।”
“ঠিক আছে কিন্তু আমার…”
“আরে আসেন তো, বইগুলো দেখেন। চমৎকার বই।” ছেলেটা তার মুখের কথা শেষ করা আগেই রুবি তার ছেলে ভুলানো হাসি দিয়ে ছেলেটাকে ভেতরে ঢুকে বই দেখতে বাধ্য করলো। রুবি থাকায় আসলেই রক্ষা। একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীর যেসব গুণাবলী থাকতে হয় তার সবকিছুই রুবির মধ্যে আছে। নাতাশা ভালো করে জানে রুবির মেবাইল নাম্বারটা পাবার জন্য হলেও ছেলেটা একটা না একটা বই কিনবে।
রুবি যখন ছেলেটার সাথে ব্যস্ত তখন নাতাশা বইঘরের সামনের রাস্তায় লেগে থাকা লাল রঙের দিকে আবারো তাকালো। তার কাছে এখনো এই রঙকে রক্ত বলে মনে হচ্ছে। সে ভাবতে থাকলো পাড়ার দুষ্ট ছেলেরা কাল রাতে কখন এই কাজ করলো? মাঝ রাতে যখন এলাকাটা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল, তখন? তারা কি সারাটা সন্ধ্যা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করেছিল বইঘরের দরজা বন্ধ হবার?
সে ব্যাপারটা স্বীকার করতে চায় না। তবু তার কেন জানি মনে হয় কেউ একজন তাকে সবসময় ফলো করে। ব্যাপারটা সে টের পেয়েছে রাহেলের সাথে সেই প্রথম ডিনারের পর থেকে। সে যখনই একা থাকে তখনই মনে হয় কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে। একা একা হাঁটার সময় মাঝে মাঝে সে পেছনে পায়ের শব্দ শুনতে পায়। সাহস করে পেছন ফিরলে সে কাউকে দেখতে পায় না।
কেউ কি সত্যিই তাকে ফলো করছে? নাকি তার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে?
কিন্তু কেন? কেন কেউ তার সাথে এমনটা করবে? তার তো কোনো শত্রু নেই। আর তার জীবনটাও আহামরি কিছু না। সে সারাদিন কাজ করে আর মাঝে মাঝে রাহেলের সাথে ঘুরতে যায়। যদিও এই জীবনটাকেই সে ভালোবাসে, অন্য কারোর তো তার প্রতি ইর্ষান্বিত হবার কোনো কারণ নেই।
কেউ যদি সত্যি সত্যি তার দরজায় রঙ ঢেলে তাকে ভয় দেখাতে চায় তবে সে সাধারণ কেউ না।
নাতাশা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। এসআই সাহেব তো বললেন এ কাজ কেউ দুষ্টুমি করে করেছে। উনার কথাই হয়তো ঠিক। বেশিরভাগ সময় সহজ ব্যাখ্যাই সঠিক হয়ে থাকে। কেউ তাকে ফলো করছে- এমন সম্ভাবনা সম্ভব না। (আনএডিটেড)
