
ঢাকায় দু’একবার দূর থেকে দেখা হয়েছে। কথা হয়নি। প্রথম দিকে কবিতা লিখেই তিনি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন। প্রকাশিত গ্রন্থ কবিতা দিয়েই৷
পরবর্তীতে গদ্যের সাদামাটা জমিনে সর্বজনপ্রিয় অনেক ফসল ফলালেন। কৌতুক নক্সায়ও আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিলেন। বর্তমান বাংলাদেশে একজন জনপ্রিয় সাহিত্যিক তিনি।
নিউইয়র্ক বই মেলায় তাঁর সাথে দেখা হয়েছিল। কথা হয়েছিল। বড় সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারেন তিনি।
২০১৮ সালে নিউ ইয়র্ক বই মেলার একটি পর্ব ছিল হাডসন ও পূর্ব নদীতে জাহাজে ঘুরে বেড়ানো। জাহাজেই মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যবস্থা রাখা ছিল। সারাদিনের এই পর্বে অবশ্যই প্রধান আকর্ষণ ছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তাঁকে কেন্দ্র করেই ড. শামসুজ্জামান খান, নাজমুন নেসা পিয়ারি, ড. দিলারা হাফিজ, আবুল হাসনাত, রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ আল ফারুক, আমিরুল ইসলাম, আহমাদ মাযহার, বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ অসংখ্য সৃজনশীল প্রাণচঞ্চল মানুষ জাহাজের ডেকে মাতিয়ে রেখেছিলেন।
কৌতুকে, গানে, পানে রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনটি এক অসাধারণ মাত্রায় ধরা দিয়েছিল। নিউ ইয়র্কের আকাশচুম্বী অট্টালিকা স্ট্যাচু অব লিবার্টির স্বাগতিক ইশারার হাতের ডাক আমাদের সবাইকে আনন্দে ভাসিয়ে দিয়েছিল। দিনটি সত্যিই অবিস্মরণীয়!
বিকেলের দিকে ভেসে চলা জাহাজটি এমন এক অবস্থানে এলো, যেখান থেকে নিউ ইয়র্ক শহরটি দিগন্ত রেখায় একেবারে আকাশের সাথে মিশে গেল। ছবি তোলার আরেকটি পর্ব তখন শুরু। সেই সময়টিতে তিনি আমাকে তাঁর কাছে ডেকে নিলেন। ছবি তোলা শেষ হলে জাহাজের রেলিং এ হাত রেখে নিউ ইয়র্কের দিগন্তবিস্তৃত অট্টালিকার দিকে চেয়ে তিনি অনেক কথা বললেন। বললেন সহজ করে। ছোট প্রসঙ্গে। আপনজনের ভাষায়। আমি জানলাম তাঁর মতো একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিকের অভিধানে একটি শব্দ নেই : অহংকার। আজ তাঁর জন্মদিনে এই বিষয়টা আমার খুব মনে পড়লো!
টরন্টো, কানাডা
