
এপাশ ওপাশ মিলিয়ে মাত্র ১০টা বাড়ি।
মুখোমুখি ছোট্ট গলির একসারি।
একদিকে ছয়টা পরিবার।
উল্টোদিকে চার।
আপনার বাড়ি নাম্বার নয়।
আমি জানতাম না, এমন কী করে হয়,
এই ৯ আইসক্রিম লেইনই ক্রমে ক্রমে প্রাণের আরাম
এনে দেয় অনেকের বুকে৷ রক্তের মুল্যে যে দাম
দিয়ে কেনা আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা ও স্বাধীন-
সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের যা কিছু গৌরব কিংবা ঋণ;
সবাই এসে গল্পে গল্পে মাতিয়ে রাখেন বেশ।
জীবন থেকে আনন্দের অংশটুকু করেন সন্নিবেশ।
স্মৃতির প্রতিবিম্বে অবলীলায়,
সামনে এসে বসেন শামসুর রাহমান,
গভীর রাতে উদ্দীপিত বাড়ি ফেরেন রাহাত খান।
মূর্ধন্যের ‘তরুণ’ হয়ে ওঠার দীক্ষা দেন রফিক আজাদ।
তুমুল আনন্দিত বেলাল চৌধুরী রাতের আড্ডায়,
মান্নান সৈয়দ চুমুক দেন গরম পেয়ালায়।
শিল্পের বাঁধনে বাঁধনহারা শহীদ কাদরী, নির্মলেন্দু গুণ,
সগৌরবে হেঁটে যান আহমেদ হুমায়ুন।
সালেহ চৌধুরীকে ডেকে পাঠান আহসান হাবীব,
এদিকে হুমায়ূন আহমেদের পরিবার নিয়ে উদগ্রীব
আমহদ ছফা।
সরকারি কোয়ার্টার থেকে তাড়িয়ে এ কেমন রফা!
সবই যেন দেখতে পাই আমরা। আবুল হাসান
শুয়ে আছেন হাসপাতালে। সুরাইয়া দেখতে যান,
প্রতিদিন বিকেলে।
কতজন বন্দী হতে চায় সুরাইয়ার হৃদয়ের জেলে!
সবই আমরা শুনি,
এমনকি আসাদ চৌধুরী বলেন সেই বিয়ের কাহিনী :
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। উত্তরবঙ্গ। স্টেশান।
শেষ রাত। চারিদিকে নীরবতার গান!
কত গল্প, তবু শেষ হয় না! থাকে আরো গল্পের রেশ,
হুল্লোড়ে আনন্দে কাঁপিয়ে প্রতিবেশ।
প্রায়শই আমরা, খুব বেশী নয়;
জনাকয়েক। কান ধরে শাসন করেছি সময়।
আইসক্রিম লেইন টরন্টো শহরের এক গলি।
আমরা যেখানেই যাই, চলি-
আমাদের সঙ্গে যায় সে ও।
অদৃশ্য, অপ্রকাশ্য, গোপনে যদিও-
তবু, আইসক্রিম লেইনে থাকে অনেক মুখ!
স্মৃতির জামদানীর ভাজেই বুঝি লুকিয়ে থাকে সুখ!
কেমন আছেন তিনি, এখনও শোনেন কোন গান!
আবার কি আমাদের দেখা হবে, ইকবাল হাসান!
