
দিনাজপুরে দুপুরে আমরা খাবার গ্রহণ করেছিলাম রুস্তম হোটেলে! অনলাইন থেকে দেখেছিলাম এই হোটেলটি বেশ বিখ্যাত |
খাবারের মান মোটামুটি ভালো| দশের মধ্যে সাত দেয়া চলে !
তবে যেরকম নামধাম শুনেছিলাম সেরকম আমার কাছে মনে হয়নি |
তবে একটা বিষয় হচ্ছে সেদিন দুপুরে প্রচন্ড ভিড় ছিল|
এই হোটেলে সব সময় ভিড় থাকে| আমরা গরুর মাংস ,সবজি ,মগজ কলিজা ভুনা ,ডাল নিয়েছিলাম |
তারা খাবার সার্ভ করেন তারা বেশ ভালো ছিলেন |
আমরা দইয়ের অর্ডার করিনি | ওনাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় দই নিয়ে এলেন!
দইটা বেশ সুস্বাদু ছিল |
এরপর আমরা রামসাগর দেখতে গেলাম |
দিনাজপুরের এই সাগর বেশ বিখ্যাত| এটা বলা হয়ে থাকে পলাশীর যুদ্ধের আগেই এটা নির্মিত হয় |
রামনাথ নামে সেখানকার একজন জমিদার ছিলেন |
তিনি ছিলেন বেশ দয়ালু |সেই এলাকার পানিসংকট চরমে উঠলে তিনি সেখানে একটা দিঘী খনন করেন!
এটা বলা হয়ে থাকে আমাদের দেশের মধ্যে মানবসৃষ্ট সবচেয়ে বড় দিঘী| এটি খনন করার পরে পানি আর ওঠে না! অনেকে বলেন তিনি সে সময় নিজের ছেলেকে সেখানে নামান এবং তার ফলে সেখান থেকে পানি ওঠে !
আবার অনেকে বলেন তিনি স্বপ্ন দেখেন যে সেখানে কোন যুবকের প্রাণ বিসর্জন দিলে পানি ওঠবে |
এখানে রাম নামে একজনের প্রাণ বিসর্জন দেন এবং সেখান থেকে রামসাগর নামের উৎপত্তি হয়েছে!
উৎপত্তি যাই হোক না কেন পৌঁছে বেশ খুশি আর বিশালত্ব দেখে অবাক হলাম !
বেশ বড় এবং অনেক সুন্দর |
আমরা এক প্রান্তে প্রচুর গাছ-গাছালি ছিল সেখানে চলে গেলাম |
একটা ছাতার মত ব্যবস্থা ছিল তার নিচে বসে মুগধ দৃষ্টি নিয়ে দেখতে থাকলাম !
সুন্দর স্নিগ্ধ এক বাতাস আসছিল| এখনো গরম সেভাবে পড়েনি|
ঘুরতে কোন কষ্ট বা অস্বস্তি হয়নি| আমি আগে একটা ব্লগে দেখেছিলাম যে সেখানে ভ্যান নিয়ে চারিদিক ঘোরা যায় |
চারিদিকটা প্রায় ৪ কিলোমিটারের মতো তবে আমরা গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পেরেছিলাম এবং গাড়ি নিয়েও ঢোকা যায় !
তবে তার জন্য এক্সট্রা কিছু ফি দিতে হয় |
কিন্তু আপনি গাড়ি নিয়ে ঢুকলে পুরা দীঘি একবার পাক দিতে পারবেন! দেখি দীঘিতে নৌকার ব্যবস্থা আছে| নৌকায় চড়ে ঘোরা যায় |
এখানে পানির স্তর নাকি খুব বেশি নিচে নামে না |
আমরা যেমন দেখেছিলাম এরকমই মোটামুটি থাকে |
বেশ কিছুক্ষন বসলাম !
আইসক্রিম, পানি খেয়ে আবার গাড়িতে করে রামসাগর থেকে রওনা দিলাম স্বপ্নপুরীর উদ্দেশ্যে !
সুন্দর এক স্মৃতি চিরদিনের জন্য থেকে গেল |
রামসাগরে প্রচুর পর্যটক বেড়াতে আসেন |যারা জিনিসপত্র বিক্রি করছিলেন তাদের থেকেই শুনলাম|
সেজন্য এখানে একটা জমজমাট অবস্থা বিরাজ করে সবসময় !


