ক্ষমতার মসনদ বহুদূর এবং বিজয়ের আনন্দ

অপদস্থ হওয়া শিক্ষক যদি হিন্দু ধর্মের না হতেন তাহলে দেখতেন এতোক্ষনে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হয়ে যেত

ক্ষমতার স্বাদ এখনো পায়নি বিএনপি। কিন্ত তাদের দলের কর্মীরা সারাদেশে ভয়াবহ চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব,  প্রতিপক্ষের ওপর হামলার রেকর্ড করে ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে!

দলের হাইকমান্ড যতোই কঠোর হোক কিন্ত তৃণমূলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাদের ভাষ্যনুযায়ী ইতোমধ্যে সারাদেশে তারা তিন হাজার নেতা-কর্মীকে বহিস্কার করেছে।

- Advertisement -

এতে লাভ কি হলো?

তাদের সংগঠনের অপরাপর নেতা-কর্মী কি কোন শিক্ষা নিয়েছে?

বরং উল্টো ভয়ংকর বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই সারাদেশে তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ আসছে। সবকিছু মূলধারার গণমাধ্যমে না এলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ না কেউ প্রমানসহ ছবি,ভিডিও  প্রকাশ করছে। সেই সব অকাট্য প্রমান মিথ্যা বা ভুয়া বলার কোন সুযোগ নেই। এরপরও কিছু লিখলে, বললে একদল বিএনপির সমর্থক ঝাঁপিয়ে পড়ে গালাগাল এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।  গত ফ্যাসিবাদী সরকারের পোষ্য ছাত্রলীগ, যুবলীগের মারদাঙ্গা চাঁদাবাজি ও খুনে চরিত্র এখন তাদের ঘাড়ে সওয়ার হয়েছে। বিএনপির জেলা, উপজেলা, থানা,ইউনিয়ন,ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বুঝতে পারছে না এসব করে জনমনে ভীতি ছড়িয়ে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন সম্ভব না। ক্ষমতা প্রত্যাশী দলটির ভরাডুবির জন্য এরাই যথেস্ট।

চট্রগ্রামের একটি ঘটনার উদাহরণ দেই। যেখানে বিএনপির কর্মীরা একটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কান্তি লাল আচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করায়।  এই ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। অভিযোগ উঠেছে, ওই দিন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিদ্যালয়ে মিছিল নিয়ে গিয়ে কান্তি লাল আচার্যকে ঘেরাওয়ের পর জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী চৌধুরী (টিএসি) উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কান্তি লাল আচার্যকে অপদস্থ ও জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা।

স্থানীয় জনগন গনমাধ্যমকে জানিয়েছে, ওই দিন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিদ্যালয়ে মিছিল নিয়ে কান্তি লাল আচার্যকে ঘেরাওয়ের পর জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নিয়েছেন।

কি আশ্চর্য দেখুন, একজন শিক্ষককে অপমান অপদস্থ করলো বিএনপির নেতা কর্মীরা। কেউ কোথাও টুঁ শব্দ করলো না, প্রতিবাদ বা নিন্দা জানালো না।

লজ্জা, লজ্জা।

তাদের ভয় কোথায়?

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ক্ষমতা প্রত্যাশীদের দৌরাত্ম্যে বাড়ি থাকতে পারবে কিনা সেই আতংকে কেউ মুখ খোলে না।

তারপরও কেউ না কেউ শিরদাঁড়া টান টান করে কথা বলে, লিখে প্রতিবাদ জানায়।

অপদস্থ হওয়া শিক্ষক যদি হিন্দু ধর্মের না হতেন তাহলে দেখতেন এতোক্ষনে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হয়ে যেত। যেহেতু কান্তি লাল ভট্টাচার্য একজন সনাতন ধর্মের অনুসারী তাকে অপদস্থ করা সহজ এবং মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো আরো সহজ কাজ। তার পক্ষে কেউ দাঁড়াবে না বরং তাকে ট্যাগিং করা হবে নানানভাবে। লেখার দৈর্ঘ্য বেড়ে যাবে তাই সেই আলাপে আর যেতে চাই না।

অনভিপ্রেত এই ঘটনার পর শিক্ষক বাবু কান্তি লাল ভট্টাচার্যের কন্যা ভাবনা আচার্য তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘বাবাকে পদত্যাগ করানোর আগে স্কুলে ককটেল ফাটানো হচ্ছিল। আমার বাবা তখনো নির্ভীক। জোর করে সাইন করতে বলছিল এমন একটি কাগজে, যেখানে লেখা ছিল-দুর্নীতির অভিযোগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। বাবা নির্ভয়ে বলেছিল, আমি দুর্নীতি করিনি, এই পেজে আমি সাইন করব না। এমনিতেই পদত্যাগ করছি। সেই সময় বাবাকে একদল মারতে যায়। পরবর্তীতে, আরেকটি কাগজে লেখা হয়—ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি।’

বাবাকে অপদস্থ করার এ ঘটনায় হতাশার কথা জানিয়ে ভাবনা লেখেন, ‘কী সুন্দর তাই না! আমার বাবা কত মানুষকে ঘরে রেখে পড়িয়েছেন, কত মানুষকে টাকা ছাড়া পড়িয়েছেন, কত মানুষের ফি মওকুফ করেছেন। আজ একজন শিক্ষকের এই পরিণতি!’

দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পরিচালনায় গঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। কমিটির বর্তমান সভাপতি জামায়াত–সমর্থিত মহিউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগপত্রে সই করানোর সময় মহিউদ্দিন আহমেদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকেও অনেকটা জিম্মি করে রাখা হয়। তাঁর এক আত্মীয়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

মজার বিষয় হচ্ছে, পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর পর ভাটিয়ারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ারের গাড়িতে করে কান্তি লাল আচার্যকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

কি অদ্ভুত!

আপনারা মারবেন, কাটবেন আবার জনগনকে দেখাবেন কিছুই হয়নি। এই নাটক শেষে বলবেন, বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানল হতে রক্ষায় আমরা স্যারকে নিরাপত্তা দিয়ে সস্মানে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। দেখেন, আমরা কত মহৎ!

সত্যি আপনারা মহৎ!

জুতা মেরে গরু দানে আপনাদের কোন জুড়ি নেই।

একটা কথা মনে রাখবেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আছে। জনগনের হাতে একদিনের ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আছে। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা আপনাদের বুড়ো আংগুল দেখিয়ে দিতে দ্বিধা করবে না।

ক্ষমতা ফিরে পাবার পরিবর্তে রাস্তায় থাকবেন আরো পাঁচ বছর।  সেদিন এই দু:খে শুধু মাথার চুল ছিড়বেন না, জনতার দেখানো আংগুল চুষবেন।

 

সব বিজয়ের আনন্দের পেছনে রয়েছে অনেক কষ্ঠকর সংগ্রাম। এবারের কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে আমার এলাকার পাপিনো – পার্ক এক্সের লিবারেল পার্টির এমপি পদপ্রার্থী মারজোরি মিশেলের জন্য ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ এই আসন থেকে বারবার নির্বাচিত হয়েছিলেন কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ট্রুডোর ছেড়ে দেয়া এই আসনে লিবারেল পার্টির মিশেল ছিলেন একাবারে নতুন মুখ। তাই ভয় ছিল, ছিল আশংকা।  সবকিছু জয় করে অবশেষে মিশেল ৫৯℅ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।  গত ক’দিন নেইবারহুডে ডোর টু ডোর সহ নানান মাধ্যমে তাঁর জন্য ক্যাম্পেইন করেছি। ফলাফল তার অনুকুলে শুধু আসেনি, এনেছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়।  সার্থক হয়েছে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার।

অভিনন্দন মারজোরি মিশেল।

 

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent