কানাডায় যেভাবে নিজেকে দাঁড় করাতে পারেন

কানাডা এখন থেকে দশ বছর আগে যেমনটা ছিল এখন ধরেন তেমনটা আর নেই

কানাডা এখন থেকে দশ বছর আগে যেমনটা ছিল এখন ধরেন তেমনটা আর নেই। আগে জীবনধারণের খরচ একটু কম ছিল। বাসা ভাড়া তুলনামূলক বহন করা যেত। এখন তার উল্টো। তবে আশার কথা হলো, নতুন সরকার হিউজ বাড়িঘর বানানোর ওয়াদা করেছেন। সেটা আস্তে আস্তে হবে। তখন সমস্যা হবে না।

এখন কথা হলো আপনি নিজেকে কানাডায় একটু ভালোভাবে দাঁড় করাবেন কীভাবে? অনেকেই আছেন মোটামুটি ভালো ইনকাম করেন, অনেকেই মিডিয়াম।

- Advertisement -

যে পরিবারে এখনো বাচ্চা নেই সেই পরিবারে জন্য সুযোগ বেশি টাকা-পয়সা সেইভ করা।

যেমন, আমরা যখন এসেছিলাম, তখন আমাদের কোনো বাচ্চা ছিল না। আমরা দুইজনই ফুলটাইম কাজে ঢুকে পড়েছিলাম। তার বেশিরভাগ টাকা আমরা জমাতে সক্ষম হয়েছিলাম এক বছরে। আসার পরই আপনি কানাডায় ব্যারিষ্টারি করবেন এটা ভাববেন না। যে কাজ পান সেটাই করুন। পরে ট্রাক বদলে ফেলুন।

তো আপনারা যারা দুইজন মিলে চাকরি করছেন তাঁরা কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন। দৈনন্দিন সবকিছু খরচের পর যতটুকু সম্ভব ততটুকু সোজা ব্যাংকের একাউন্টে রাখবেন। দেখবেন আপনাদের ভালো একটা এমাউন্ট ক্রিয়েট হবে ইনশাআল্লাহ।

এখন যাঁদের বাচ্চা নেই তাঁরা তো রাখলেন। যাঁদের আছে তারাও রাখবেন। যাঁদের বাচ্চা আছে তাঁদের জন্য আরেকটা সুযোগ। আপনারা প্রত্যেকটা বাচ্চার জন্য মাসিক চাইল্ড বেনিফিটস পাবেন। আয়ের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে ঐ বেনিফটস কম-বেশি পাওয়া।

এখন আসেন আরেকটা পদ্ধতি এপ্লাই করা যাক:

RRSP, or Registered Retirement Savings Plan এইটা করার চেষ্টা করবেন। আমরা আসার পরপরই আমার husband বুদ্ধি করে ঐটা করেছেন।

এটা করলে হয় কী শোনেন, আপনারা এই সেভিংসে টাকা রাখলে আপনাদের যাঁদের একটু বেশি ইনকাম তাঁদের ইনকামের একটা অংশ হাইড করা থাকে এই সেভিংসের আড়ালে। ফলে বেতন একটু সরকারকে কম দেখানো হয়। অন্যান্য সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। আর এই জমানো টাকা তো নিজেরই টাকা যা retirement এর পরে নেওয়ার সিস্টেম। কিন্তু এর ফাঁকে যদি টাকা দরকার হয় আছে না ধরেন ব্যবসা করবেন, বাড়ি কিনবেন ইত্যাদি করার জন্য আপনার RRSP এর টাকা ব্যাংক থেকে ধার নিতে পারবেন। সিস্টেম আছে। আমরা করেছিলাম। বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেইমেন্ট দিয়েছিলাম ওটা তুলে। ওটা একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয়।

আর যা-যা করতে পারেন:

কানাডায় আসার পরপরই একেবারে উতালা হয়ে অনেকেই দেশে ঘুরতে চলে যান। অনেকেই বছরে বছরে যান। কেউ কেউ আরো ঘনঘন যান। কেউ যান কয়েক বছর পর।

তো মন খারাপ হলেই যদি মাসে কিংবা বছরে দেশে ছুটে যান, তাহলে ধরেন আপনি কখনোই টাকা জমাতে পারবেন না। বরং আপনার আরো অনেক ঋণ হয়ে থাকবে।

অন্যের বাড়িতে দাওয়াতে যাওয়া বা চল্লিশ জনের দাওয়াত দেওয়া প্রতি সপ্তাহে কমাতে পারেন। তাতে আপনার মানি সেইভ হবে। সমালোচনা থেকেই নিজেকে একশো হাত দূরে রাখতে পারবেন।

অনেকেই দেশে বাড়ি বানান অন্যদের জন্য। আর কানাডা থেকে লোন নিয়ে হোক, আর নিজের আয়ের সবটুকু দিয়ে হোক টাকা পাঠান দেশে। এতে এদেশের আপনার জীবনধারণ অত্যন্ত শোচনীয় হবে। বাড়তি টাকা সেইভ করা তো দূরে রাখেন।

কানাডায় আপনার টাকা সেইভ করা দরকার কেন?

এদেশে আপনার হাতে যদি টাকা না থাকে তাহলে ধরেন কেউই দরদ দেখিয়ে আপনাকে এক টাকাও কর্জ বা হাওলাত দেবে না।

টাকা আপনার অনেক কাজে লাগবে।

এদেশে ছেলেমেয়েদের জন্য গাড়ি-বাড়ি করে ম*রার কোনো দরকার নেই। আমরা এশিয়ার ইমিগ্রান্ট আমাদের এই চিন্তাটা মাথায় পার্মানেন্ট হয়ে থাকে। তাদের মানে সন্তানদের জন্য করে যেতে হবে। অথচ এদেশে ছেলেমেয়েরা তো হাইস্কুলে থাকতেই নিজেরা স্বাবলম্বী হয়। তারা চাকরি করে, গাড়ি-বাড়ি সবই কেনে।

তাহলে আপনি টাকা জমাবেন কেন?

আপনার নিজের জন্য। জীবনের ক্লান্তি লগ্নের জন্য। নিজের পাশে কেউ দাঁড়াবে না। আল্লাহ সবসময় সবার জন্য আছেন।

আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent