
হেই অ্যালেক্স, ডু ইউ লাইক ওয়ার্কিং স্যাটার ডে?
সুরেলা টানে জবাব দিলো, ইয়েস আই ডু!
একটু অবাক হলাম। সাদা চামড়ার মানুষগুলো সাধারণতো শনিবার কাজ করা পছন্দ করেনা। আর ও এ্যাতো খুশী হয়ে বলছে, ইয়েস আই ডু! জিজ্ঞেস করলাম প্রতি শনিবারেই কাজ করতে ভালো লাগে তোমার?
এবার ঘাড় শক্ত করে উত্তর দিলো, নো।
বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম। বললাম, তাহলে প্রথমে যে বললে তুমি পছন্দ করো?
ওহ…. সেটা আসলে আজকের জন্য।
আজ কোনো স্পেশাল ডে?
না তা নয়। তুমি থার্সডে রিগ প্ল্যাটফর্ম এপ্রুভ করোনি। তাই গতো দুদিন কাজ হয়নি। সো…. আজকের কাজে গতো দুদিনের টাকা তোলার বিরাট সুযোগ।
কেনো আজ কি তোমাদের ডাবল পেমেন্ট?
হ্যাঁ। বেশ চিকচিকে চাহনিতে গদগদে খুশীর গলা।
বাহ… খুউব আনন্দের দিন তাহলে তোমার।
পিঠ সাপটে বেশ কায়দা করে এবার ওর মজুরি জানার চেষ্টা করলাম। শ্রমের দাম আমাদের দেশে অমানবিকভাবে কম। তাই তুলনামূলক চিত্র আঁকতে আমি প্রায়শই বিভিন্ন ট্রেডের শ্রমিকদের বেতন জানার চেষ্টা করি। সরাসরি জানতে চাওয়া একরকম অপরাধ। তাই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বললাম, তোমাদের এসব পজিশনে কতো দিয়ে হায়ার করে?
তড়িৎ জবাব। রাখঢাক না রেখেই বললো, ঘন্টায় ৪০ ডলার। কিন্তু আজ পাবো ৮০ ডলার।
লিকলিকে গড়ন মাঝারি হাইটের তরুণ অ্যালেক্স। পাতলা লাল গোঁফ বলে দেয় ওর বয়স উনিশ বিশের বেশি নয়। হাই স্কুল শেষে প্লাম্বিক স্কুলে ভর্ত্তি হয়েছিলো কিংস্টন অন্টারিওতে। এমন সময় শুরু হলো করোনা নামের ন্যানো দানবের আক্রমন। হাতে কলমে কাজ শেখার স্কুল কি বন্ধ থাকলে চলে? অতএব স্কুল ছেড়ে যোগ দিলো একটি পাইলিং কোম্পানিতে। জেনারেল লেবার। ওর কাজ ড্রিলিং রিগের তলা থেকে মাটি পরিষ্কার করা। আর অগারের ফ্লাইট ক্লিন করা। মাঝে মধ্যে সার্ভেয়ারের দেয়া লোকেশনে অগারের পিন ড্রপ করা।
এই কাজের মজুরি যখন ঘন্টায় ৪০ ডলার বা বাংলাদেশী মূদ্রায় ঘন্টায় ২৭০০ টাকা হয়, তখন বাংলাদেশের নির্মাণ শ্রমিক ভাইদের কথা খুউব মনে পড়ে। কী বিশাল পার্থক্য মানুষে মানুষে!
ছবিঃ আজ সকালে ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মার্কহ্যাম ক্যাম্পাসে ড্রিলিং চলাকালীন তোলা। ছাই রঙের হার্ডহ্যাট পড়া অ্যালেক্স ড্রিল অগারের নিচে কাজ করছে।
ব্রাম্পটন, কানাডা
