মন্ট্রিয়লের চিঠি : ড. ইউনুস হতাশ–ক্ষুব্ধ, পদত্যাগ নিয়ে ভাবছেন!

দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে ড মুহাম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নিয়েছিলেন অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার

দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে ড. মুহাম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নিয়েছিলেন অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার। গত নয়মাসের প্রতিটি দিন তার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের। জুলাই গণভ্যুত্থানের পর যে আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র জনতা তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন, সেই সংস্কার, নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়ন, অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করার সকল কাজগুলো এক মুহুর্তের জন্য নির্বিঘ্নে করতে পারেননি।

দেশে ও দেশের বাহিরে তাকে নানানভাবে আক্রমন করা হয়েছে এবং অব্যাহতভাবে করা হচ্ছে। মিথ্যা ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল ও বিশৃংখলা তৈরি করা হয়েছে। আগস্টের পর হতে প্রতিদিন গড়ে ৪টি দাবী আদায়ের সমাবেশ ডেকে রাজপথ দখল করে জনজীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছে। একশ্রেনীর দূর্বত্ত মব সৃস্টি করে চরম ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে। উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্টি এই সুযোগে মাঝার, মন্দির ভাংচুর ও সংখ্যালঘুদের বেশ কিছু সম্পত্তি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এই গোষ্টি ও অর্ধমুর্খ, অশিক্ষিত কিছু বর্বর পশু নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়ন চালিয়েছে। কিছু ইউটিউবার অপপ্রচার চালিয়ে সব সময় দেশে হুমকি ধামকি দিয়েছে। সব সময় অস্থিরতা তৈরির চেস্টা করেছে, এর দায় তারা এড়াতে পারে না। দায় এড়াতে পারে না বড় রাজনৈতিক দলও। তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রনহীন চাঁদাবাজি, দখলবাজী, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, নির্যাতন জনগনের মুখে মুখে।

- Advertisement -

সরকারে থাকা কিছু দায়িত্বশীল মানুষ দায়িত্বহীন বক্তব্য দিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি ও বির্তকের সৃস্টি করেছে। জুলাই গণভ্যুত্থানের অগ্রনায়কদের দুই একজন নানান বক্তব্য দিয়ে এবং সর্বত্র খবরাদারি করতে গিয়ে চরম দায়িত্বহীন ও অপরিমান দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। সংস্কৃতিসেবি মানে আওয়ামী দোসর এই আখ্যা বা ট্যাগিং করে বিভাজনের রাজনীতিকে পোক্ত করা হয়েছে। উগ্র মৌলবাদী শক্তির হাতে নাটক বন্ধ করা, বইমেলায় স্টল বন্ধ করা, বই বিক্রিতে বাঁধাদান, নারীদের ফুটবল খেলা নিষিদ্ধের দাবী , নিস্পাপ ফুল বিক্রিতে বাঁধা দেয়া, ঘুড়ি উৎসব বন্ধ করা, বটগাছ শিরক বলে কেটে ফেলা, পত্রিকা অফিসে হামলা করা, জাতীয় সংগীত গাইতে বাঁধা দেয়া, মুক্তিযুদ্ধকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-হেয় করা, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন ও দেশের নাম পরিবর্তনের দাবী তোলা, সড়ক সেতুর নাম পরিবর্তন করা, বেগম রোকেয়ার আবক্ষ ভাংচুর, বীর শ্রেষ্ঠদের ছবি কালি লেপন করা, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া,শিক্ষকদের অপদস্থ করাসহ মবোক্রেসি বন্ধ করতে প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একই সময় মৌলবাদী শক্তি ও সুযোগ সন্ধানী মবকারিরা জনজীবনে ভয়াবহ আতংক তৈরি করেছে। এদের দমনে সরকার ও পুলিশ তাদের অসহায়ত্বের পরিচয় দিয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নামধারীদের দৌরাত্ম্যে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, প্রশাসন, পুলিশ ভয়ে তটস্থ থেকেছে। পাশাপাশি জামায়াত – বিএনপির নেতাকর্মীদের দাপটে প্রশাসন থেকে সাধারন মানুষ অসহায়। মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এরকম অবস্থায় সরকার অপরাধ দমনে কঠোর কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন নিয়ে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে সরকারকে বেকাদায় রেখেছে। কাজ করার জন্য সময়, সুযোগ ও সহযোগিতা দেয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিকদলগুলোর ভেতরে ভেতরে অসযোগিতা করার অভিযোগ শোনা যায়।

এই অগ্নিকুন্ডে বসে ড. ইউনুসের পক্ষে ৯ মাস টিকে থাকাটাই বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপরও তিনি আছেন। কিন্ত এরকম অবস্থা চললে তিনি কতদিন থাকতে পারবেন?

কাজ করার সুযোগ না দিলে নিশ্চয়ই তিনি থাকতে চাইবেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপদেস্টাদের মিটিয়ে তিনি চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এই সংবাদ কিভাবে কিভাবে যেন বাহিরে আসায় সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজববাজরা গরম করে রেখেছিল। তার ভুয়া পদত্যাগপত্র বানিয়ে ছেড়েছে,তিনি পদত্যাগ করেছেন!

২০১১ সালের ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ” গ্রামীন ব্যাংক হতে ইউনুসের বিদায়” পুরানো সংবাদটি এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছে,যাতে লেখা আছে “ইউনুসের বিদায়। ”

বুঝুন কি ধরনের ধাপ্পাবাজি করেছে গুজববাজরা।

যাহোক, আসল কথায় আসি।

ড. ইউনুস সত্যি হতাশ–ক্ষুব্ধ। মানসম্মান আছে বলেই তিনি ‘পদত্যাগ’ নিয়ে ভাবছেন। এদেশের মানুষের পেটে ভাল কিছু সয় না। মন্দতে উদর ভরে, ভাল কিছু পেটে গেলে উগড়ে না ফেলা পর্যন্ত তাদের শান্তি নেই। এরকম মানুষদের সাথে ড.ইউনুস এর মতন ব্যক্তির যায় না। তিনি যা ভেবেছেন, তা যদি সত্যি হয়, বলবো, জনগনের একশো একটা দোষের পরেও এর দায় কিন্ত বর্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর।

 

মন্ট্রিয়েল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent