মিথ্যাচারের রাজনীতি

যে মিথ্যাচার দিয়ে বাংলাদেশ ও ফাকিস্তান এ সবচে বেশি অনাচার করা হয়েছে তার নাম ভারতের সেবাদাস

যে মিথ্যাচার দিয়ে বাংলাদেশ ও ‘ফাকিস্তান’-এ সবচে বেশি অনাচার করা হয়েছে, তার নাম ‘ভারতের সেবাদাস।’ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ–ফাকিস্তানিরা তাদের অনাচারগুলোকে হালাল করতে চেয়েছে আক্রান্তদের ‘ভারতের সেবাদাস’ ট্যাগ দিয়ে। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কারণে ‘ফাকিস্তান’ অর্জন সম্ভব হয়েছে, এটা নির্ভেজাল সত্য; অথচ, সেই সোহরাওয়ার্দীকে ’ভারতের সেবাদাস’ ট্যাগ দিয়ে তাঁর ‘ফাকিস্তান’ আসা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল।

মুক্তিযোদ্ধারা বরাবর ‘ভারতের সেবাদাস’; এমনকি সেই মুক্তিযোদ্ধা যদি জিয়াও হয়। জিয়াকে হত্যা করার পরে জেনারেল মঞ্জুর তার বেতার ভাষণে দাবি করেছিলেন, ভারতের দাসত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

তার আগে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় সেই একই বয়ান–বঙ্গবন্ধু দেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। খুনিরা উদ্ধার করেছে।

জেনারেল খালেদ মোশাররফ প্রথম এবং একমাত্র সেনাপ্রধান, যাঁকে সেনারা হত্যা করেছে ‘ভারতের সেবাদাস’ ট্যাগ দিয়ে। পরেরজন জেনারেল জিয়া, অবশ্য খুন হওয়ার সময় তিনি সাবেক সেনাপ্রধান হয়ে গিয়েছিলেন। বিএনপির রিজভী বরাবর জিয়া হত্যার জন্য ভারতকে দোষ দিয়ে আসছে; তাদের দলের কর্মীরা এটা বিশ্বাসও করে। প্রশ্ন: রিজভী অথবা জেনারেল মঞ্জুর, কে সত্য বলছে? যাহোক, বিএনপির সমর্থকদের কাছে, জেনারেল এরশাদ হলো ’ভারতের সেবাদাস।’ ১/১১-’র পরে শোনা গেল জেনারেল মইনও ছিলেন ‘ভারতের সেবাদাস’, যাকে হাত করে র’এর লোকেরা বিডিআর-এ কর্মরত ৫৭ জন সেনাকর্তাকে খুন করেছে।

শেখ হাসিনা তো উত্তরাধিকার সূত্রেই ‘ভারতের সেবাদাস’ তকমা পেয়েছে এবং স্বয়ং ফেরেশতা এসেও যদি বলে যে, শেখ হাসিনা ভারতের সেবাদাস না; পাবলিক সেই ফেরেশতার ঠ্যাং ভেঙে দেবে। ইদানীং, খুনি মেজর রশিদ থেকে শুরু করে ফুয়াদ মার্কা কিছু জামাতি স্বীকার করছে যে, বঙ্গবন্ধুর কারণে মাত্র তিনমাসের মাথায় ভারতীয় সেনাদার প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়েছে।

এখন শোনা যাচ্ছে, জেনারেল ওয়াকারও নাকি ‘ভারতের সেবাদাস।’ দেখা যাক, ভদ্রলোকের কপালে কী লেখা আছে! আর দেখুন, ‘ভারতের সেবাদাস’ হওয়ার ভয়ে বিএনপি তো নির্বাচনই দাবি করতে পারছে না। ভাবা যায়?

ক্রালগারি, আলবার্টা

- Advertisement -

Read More

Recent