
শ্যাম বেনেগালকে পরিচালক নিযুক্ত করার পর চারবছর ধরে “মুজিব: একটি জাতির রূপকার” চলচ্চিত্র দেখার যে প্রবল আগ্রহ, তার সফল সমাপ্তি হলো গতকাল। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা, সেটা তো অবশ্যই আগ্রহের কেন্দ্র, তারপর যখন দেখলাম, আমাদের নাট্যজগতের প্রিয় মানুষ, প্রিয় লেখক সাধনা আহমেদ তাতে যুক্ত হয়েছেন, তখন আগ্রহের মাত্রা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছিল, ভাবা যায়? এই সিনেমার বেশিরভাগ কাজ হয়েছে কোভিডের সময়, বোম্বে সিনেমাজগত কারিগরীভাবে কতটা উন্নত তার গল্প দিনের পর দিন শুনেছি, শুনেছি আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে আশা-নিরাশার নানা গল্প। গতকাল সাধনা আহমেদের পাশে বসে সিনেমাটি দেখতে দেখতে পলকহীন, নির্বাক এক সময় অতিক্রম করলাম। অভিনয়ে আমাদের পরিচিত মুখগুলোকে চিনে নিতে অসুবিধে হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল আমি যেন সত্যিকারের মানুষগুলোকে দেখছি। কেন জানি একবারও মনে হয়নি, হলে বসে কোন সিনেমা দেখছি। নিজেকে মনে হচ্ছিল সময়ের তরীতে ভেসে বিগত শতাব্দিতে ঘটে যাওয়া জাতি হিসেবে বাঙালির বিস্ময়কর উত্থানের সাক্ষী। কিশোর মুজিব থেকে জাতির পিতা, এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রচণ্ড মানবিক ও সংসারী মন একসাথে মিলেমিশে একাকার, বোধকরি শ্যাম বেনেগালের
পক্ষেই এমন চলচ্চিত্র বানানো সম্ভব। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সিনেমা হবে, তাঁর জীবনের নানাদিক নিয়ে নানাভাবে সিনেমায় তুলে আনা হবে; তবে, একেবারের পলিমাটির গন্ধসমৃদ্ধ এক অনার্য বাঙালির জেদ ও ভালোবাসার রহস্য বুঝতে এই সিনেমাটি মাইলফলক হয়ে থাকবে– এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। গতকাল অনেকটা অলৌকিকভাবেই বাহাদুর বেপারিও আমার একপাশে, এও কি সম্ভব যে, এতদিন আমার অপেক্ষাতেই বন্ধুর পক্ষে সিনেমা হলে আসা হয়নি!
ক্যালগেরি, কানাডা
