আর কত জুলাই চেতনা বিক্রয় !

কথায় কথায় এখন জুলাই গণভ্যুত্থানের চেতনা বিক্রয়কারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে

কথায় কথায় এখন জুলাই গণভ্যুত্থানের চেতনা বিক্রয়কারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কিছু হলেই বলেন, আমরা জুলাইয়ের সৈনিক!

মত পথের ভিন্নতা হলেই সাবেক সরকারের ফ্যাসিবাদের সমর্থক,  দোসর তকমা দিয়ে ট্যাগিং করা হচ্ছে। মানুষ অতিষ্ট হলেও প্রানের ভয়ে, হেনস্তার আশংকায় ও অপমানের ভয়ে চুপ।

- Advertisement -

আরে ভাই, আপনারা একাই জুলাই গণভ্যুত্থান করেননি। দেশের অধিকাংশ মানুষ আপনাদের পাশে ছিল ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য। প্রবাসে থাকা বাংলাদেশীরাও ফ্যাসিজমের পতন চেয়েছে। কিন্ত এখন সব ভুলে গেছেন। মনে রাইখেন, আপনাদের মাস্তানি, হুমকি-ধামকি দেখার জন্য মানুষ ফ্যাসিবাদের পতন চায়নি। যে মানুষ জুলাই গণভ্যুত্থানে রাজপথে ছিল, সেই মানুষ এখন আপনাদের বিরুদ্ধে। এরা আবার আপনাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়ালে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন কিনা ভেবে দেখেন।

আমরাও একসময় ছাত্র রাজনীতি করেছি। দীর্ঘ ন’বছর জগদ্দল পাথরের মতন চেপে থাকা সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ১৯৮৬ হতে ১৯৯০ সাল অবধি রাজপথে ছিলাম। জেলা পর্যায়ের পরিচিত সংগঠক, সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায় সদস্য ছিলাম। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে রাজনীতি করেছি, স্বৈরাচার হটিয়েছি। নব্বই পরবর্তী সময়  অভ্যুত্থানের সৈনিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কখনো কোন সুযোগ সুবিধা, চাঁদাবাজি, হুমকি ধামকি দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। সেই সময়ের কোন বাম ছাত্র সংগঠনের সংগঠক, নেতা-কর্মী কেউ নব্বই গণভ্যুত্থানের চেতনা বেচে খায়নি। আপনাদের সাথে আমাদের পার্থক্য এখানেই।

আপনাদের জুলাই গণভ্যুত্থানের চেতনাধারীরা আগস্টের পর হতে সারাদেশে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।আপনাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী,দখল, প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, মানুষকে তুলে নিয়ে টর্চার সেলে নির্যাতন, নিপীড়নের হাজার হাজার অভিযোগ। বাঁধা দিলেই ফ্যাসিস্টের দোসর বলে মবোক্রেসি করেন। আহতরা চিকিৎসা নেয়ার নামে কেবিন,সীট দখল করে আছে, সুস্থ হয়ে যাবার পরও বাড়ি ফিরছে না,  হাসপাতালগুলোকে নিজের বাড়িঘর বানিয়ে ফেলেছেন। সাধারণ রোগিদের চিকিৎসা ব্যাহত করছে, চিকিৎসকদের মারধোর করা, স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত করার মতন গুরুতর অভিযোগ কিভাবে খন্ডন করবেন?

গত পনেরো বছর আওয়ামী লীগ ও তার অনুসারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে মহান মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে। ঠিক অনুরূপভাবে আপনারা জুলাইয়ের সৈনিক নাম বিক্রি করে জুলাই গণভ্যুত্থানের চেতনাকে বিনস্ট করে ফেলেছেন। দু:খ হয় অভ্যুত্থানের এক বছর পুর্তি হয়নি, মানুষ আপনাদের নাম শুনলে ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

এবার ক্ষেমা দেন।

জুলাই গণভ্যুত্থানের চেতনা বিক্রি বন্ধ করেন। এরকম মাত্রারিক্ত বাড়াবাড়ির ফল আপনাদের বিপক্ষে যাবে। মাথায় রাইখেন, দেশে আগামী নির্বাচনের পর আপনাদের সর্মথনের দল ক্ষমতায় থাকবে না। যারা ক্ষমতাসীন হবে তারা আপনাদের এই বাড়াবাড়ি নিশ্চয়ই সহ্য করবে না। তখন এই মাস্তানি করে পার পাবেন না। আইনের প্রয়োগে জীবন কিন্ত জেরবার হয়ে যাবে।

সময় এখনই, সব শুধরে নিয়ে শ্রেনীকক্ষে ফিরে যান। পড়াশুনো করে  ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করুন।  এটাই হবে আপনাদের জন্য সবচেয়ে ভাল ও উত্তম কাজ।

 

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent