
ইরান আক্রমণের পর ট্রাম্প সম্পর্কে আমার একটি নতুন মূল্যায়ন তৈরি হয়েছে।
আমি এখন মনে করি, ট্রাম্প আদতে কোনো দেশের রেজিম চেঞ্জ বা সরকার বদলের পক্ষপাতী নন। এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো—তিনি ইরানের বর্তমান সরকারকে সরাসরি উপদেশ দিচ্ছেন: “তোমরা ইরানকে আবার মহান করো, না হলে আমি রেজিম চেঞ্জের দিকে যাবো।” অর্থাৎ, তিনি এখনো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সুযোগ দিতে চান এবং এই সরকারের মাধ্যমেই নিজের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে আগ্রহী। আজকে পর্যন্ত দেখা গেছে, তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতারও প্রশংসা করেছেন—যা তার আগের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি কি অন্যকিছু ইঙ্গিত করে না? মনে হচ্ছে তিনি ইরানের বর্তমান সরকারের সাথেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছেন।
একই রকম অবস্থান আমরা দেখতে পাই আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও। তালেবান সরকারের সঙ্গে তিনি একসময় বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। সিরিয়ার নতুন সরকারের সাথেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মানে কি দাঁড়ায় না যে, ট্রাম্প মৌলবাদী, উগ্র বা চরমপন্থী সরকারগুলোর সাথেও সম্পর্ক গড়তে দ্বিধা করেন না—যতক্ষণ না তাঁর স্বার্থ পূরণ হয়?
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে তিনি ইসলামী মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন। কিন্তু তাঁর কাজকর্মে তো ঠিক তার উল্টোটাই দেখা যাচ্ছে।
ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প কোনো রকম রেজিম চেঞ্জের চেষ্টা করেননি। চাইলে তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে সরিয়ে তাঁর অনুগত কোনো পুতুল সরকার বসাতে পারতেন—যা হয়তো যুদ্ধ থামানোর পথ সহজ করত। কিন্তু ট্রাম্প সে পথে হাঁটেননি।
এসব দৃষ্টান্ত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, ট্রাম্প মূলত প্রতিটি দেশের বিদ্যমান সরকারব্যবস্থার মাধ্যমেই নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে আগ্রহী। রেজিম চেঞ্জের মত দীর্ঘমেয়াদী, ব্যয়বহুল এবং জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে যাওয়ার মানসিকতা তাঁর নেই।
তিনি আসলে একজন ব্যবসায়িক মনোভাবসম্পন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কে তাঁর স্বার্থ পূরণ করতে পারবে—রাম, শ্যাম, যদু বা মধু—যেই হোক না কেন।
তাই বলা যায়, ট্রাম্প মোটেও রেজিম চেঞ্জার নন। বরং, বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমেই তিনি তার লক্ষ্য অর্জন করতে চান।
এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
