
কিছুক্ষণ আগে ডাক্তার মিলন মারা গেছেন। রিকশায় করে টিএসসির দিক যাচ্ছিলেন। পার্কের ভেতর থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে।
এর আগে ডাক্তার মিলনের নাম শুনিনি। কিন্তু গুলিতে নিহত হওয়ার কথা শুনে হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো। পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে চারুকলার দিকে যেতে ভয় পাচ্ছিলাম। জালাল ভাইয়ের মুখ থমে থমে। চোখে মুখে চরম উত্তেজনা।
পা বাড়ালাম দক্ষিণ দিকে। জাতীয় কবির মাজার হাতের ডানে রেখে এগোতে লাগলাম। হঠাৎ একত্রে চার পাঁচটা গুলির শব্দ। এবার আত্মরাম খাঁচা ছাড়ার দশা। পরের কয়েক কদম কিভাবে হেঁটেছি মনে নেই। জালাল ভাইয়ের পরামর্শে ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর পেছনের ওয়ালটার পশ্চিম পাশে কয়েক মিনিট শুয়ে ছিলাম। যাতে গুলি গায়ে না লাগে।
ডিসেম্বর ৬ এরশাদ সরকারের চূড়ান্ত পতন ঘটে।বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবের ঢল নামে। টিএসসি সড়ক দ্বীপ ঘিরে হাজার হাজার উৎফুল্ল শিক্ষার্থীর সমাবেশ। এ আনন্দ উল্লাস একদিন নয়, চলেছে প্রায় মাস ব্যাপী। এ্যানেক্স ভবন থেকে আমরা সর্বদলীয় মিছিল নিয়ে আনন্দ করতে করতে টিএসসি যেতাম। চিৎকার করে দেশের গান গাইতাম। মনে হতো দেশ নতুন করে মুক্ত হয়েছে।
এরশাদ যুগ অবসানের পর একানববুইয়ের শীতকালটা পরমানন্দে কেটেছে ক্যাম্পাসে। এক বসন্তে ভর্ত্তি হয়েছিলাম। আরেক বসন্ত চলে এলো। আমি আর স্ট্যাটিস্টিক্সের আরেক বন্ধু জাকির হোসেন বাঁধন কেমন যেনো উড়ু উড়ু হয়ে গেলাম। এ্যানেক্সের মায়া কাটিয়ে বসন্তের পাখি বাঁধন উড়লো জাহাঙ্গীরনগরের অভয়ারণ্যে। আমি পদ্মা নদী পাড়ি দিলাম। গন্তব্য সুন্দরবন। দুজনই ফেরারী পাখি। ফেরারী পাখিরা কুলায় ফেরেনা।
নতুন বাসা বাঁধলাম খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (KUET)। স্যার সলিমুল্লাহ হলের ঠিকানা হয়ে গেলো প্রিয় লালন শাহ হল। স্ট্যাটিস্টিক্সের কঠিন বক্রাংক হয়ে গেলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’র জটিল মোমেন্ট ডায়াগ্রাম। এ জটিলতাই এখন জীবিকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন চলছে। গৌরবের একশো বছর। এর মাঝেই রয়েছে আমার ফেলে আসা এক বছর। শ্রেষ্ঠতম আনন্দময় এক বছর।।
ব্রাম্পটন, কানাডা
