ভূ-রাজনীতি

ভূ রাজনীতির খেলা নিয়ে ভারতের সাংবাদিক অমল সরকারকে দেওয়া ফরহাদ মজহারের লম্বা সাক্ষাৎকার মন দিয়ে শুনলাম

ভূ-রাজনীতির খেলা নিয়ে ভারতের সাংবাদিক অমল সরকারকে দেওয়া ফরহাদ মজহারের লম্বা সাক্ষাৎকার মন দিয়ে শুনলাম। একে, কয়েকদিন আগে সমকালকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারের ফলোয়াপই বলতে পারেন। মোদ্দা কথা, তিনি বলতে বাধ্য হয়েছেন যে রেজিম চেঞ্জ মার্কিনীদের কাছে ডাল-ভাত। নবনীতা চৌধুরীর কাছে দেওয়া বিএনপি নেত্রী নিলুফার মনির সাক্ষাৎকারেও দেখি রেজিম চেঞ্জে মার্কিন ভূমিকা উঠে এলো। আমাদের রোমান্টিক বিপ্লবীদের কবে হুস ফিরবে, কে জানে; তবে, হুস ফিরলেও তারা যে আদিম বিভ্রান্তির মধ্যেই বাস করবে এবং জনগণকে সেই বিভ্রান্তির চোরাবালিতে বারবার নিক্ষেপ করবে, তাতে সন্দেহ নাই।

ফরহাদ অন্তত স্বীকার করেছেন যে রেজিম চেঞ্জের জন্য মার্কিনীরা সুশীল সমাজ এবং এনজিওদের ব্যবহার করে। দেশে-দেশে এনজিও সৃষ্টির পেছনে ভূ-রাজনীতির উদ্দেশ্য কিন্তু সেটাই: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ করা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খাকে চুরি করা। খেয়াল করে দেখুন, রাজতন্ত্রে এনজিওদের কোন স্থান নাই। রাজা স্বয়ং যেখানে মার্কিন অনুগত, সেখানে তাকে কাদায় ফেলে নাকানিচুবানি খাওয়ানোর তো দরকার নাই। অবিকশিত গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থাহীনতার কারণে সমাজে তারা মাতুব্বরী করার সুযোগ পেয়ে যায়, সরকারের আর্থ-সামাজিক কর্মসূচীর বিকল্প হয় ওঠে। সুশীল-এনজিওদের মাতুব্বরী মানেই মার্কিন প্রভাব। ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে মূলত: জামায়াতি ইন্ধনে খুব দ্রুত তিন জোটের রূপরেখা নামক রাজনৈতিক সমঝোতা ভেঙে গেলে বাংলাদেশে চেপে বসে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা। গণতন্ত্র যদি মানবপ্রজাতির আবিষ্কৃত সবচে গ্রহনযোগ্য পদ্ধতি হয় তো তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে সেই গণতন্ত্রের ক্যান্সার। গণতন্ত্রকে দেখভাল করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর; আর তা বিকশিত হয় সরকার, বিচারবিভাগ, নির্বাচন কমিশন নামক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে। এনজিওদের প্রথম কাজ হচ্ছে এই তিন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের সন্দেহ সৃষ্টি করা, তারপর রাজনৈতিক বিরোধের নিষ্পত্তির নামে তাকে আরও গভীর করা। সাথে যদি জাতিসংঘকে যুক্ত করা সম্ভব হয়, তো গণতন্ত্রের ধ্বংস ঠেকায়, কার সাধ্য।

- Advertisement -

ফরহাদ মজাহার একজন এনজিও বুদ্ধিজীবী। তাত্ত্বিক জায়গা বুঝতে পারার এক সক্ষমতা তার আছে, আর ফাঁকিটাও সেখানেই, কারণ, দিনশেষে, তার রিজিক আসে যে এনজিও থেকে, সেখানে তাকে বাঁধা থাকতে হয়। কার্ল মার্ক্স সেটাই বলছেন। ফরহাদের সম্পর্কে সবচে কাছাকাছি মূল্যায়নটি সম্ভবত: আহমদ ছফার। সত্য হলেও দুঃখজনক যে, বর্তমানে বাংলাদেশে আহমদ ছফার মতো কেউ নাই। অথবা, থাকলেও, মিডিয়ার কাছে তারা নমশূদ্র হয়ে আছে। জুলাইয়ের এত বড় প্রতারণার পরেও বুদ্ধিবৃত্তিক জগত এমন নিরব থাকার কথা না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা অভূতপূর্ব। অথচ, ১৯৪৭ সালের প্রতারণার পরে কী বিপুল শক্তি নিয়েই না বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক জগত জেগে উঠেছিল। উদাহরণ: ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয় সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, যেটি উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে স্থান পেয়ে দীর্ঘদিন তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। বাকিদের কথা না হয় বললাম না।

 

ক্যালগেরি, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent