
সারা পৃথিবীর মানুষই স্বাধীন ভাবে কথা বলতে আর স্বাধীন মত প্রকাশ করতে চায়। বিশিষ্ট জনদের মতে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থে স্বাধীন ভাবে কথা বলার অধিকার আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি অপরিহার্য পূর্ব শর্ত। তবে স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি বিষয় সবারই মনে রাখা উচিত যাতে করে ব্যক্তিগত মত প্রকাশে বস্তু নিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, সততা বজায় থাকে। খেয়াল রাখতে হবে কোন অবস্থাতেই যেন অসত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে কারো ব্যক্তিগত চরিত্র হরণ বা অপ্রাসঙ্গিক কোনো তথ্যের মাধ্যমে কারো ব্যক্তিগত জীবনকে বিপর্যস্ত করা না হয়। এই ধরনের অযাচিত কর্মকাণ্ড এক অর্থে ফৌজদারী অপরাধের পর্যায়ে ও পড়ে।
এই প্রসঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই বর্তমানে বহুল জনপ্রিয় আর প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর কথা আলোচনায় চলে আসে। ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত। এই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে অবাধ মত প্রকাশের সুযোগের অপব্যবহার করে কোন কোন ব্যক্তি বা মহল অন্যায় ভাবে আর সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে মানুষের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন অথবা ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয় গুলোকে প্রকাশ্যে এনে নীতি নৈতিকতা বিসর্জনের এক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আর ইউটিউবে প্রতিদিন এরকম হাজার হাজার পোস্ট অথবা ভিডিও দেখা যায় যেগুলো সম্পূর্ণ অসত্যের উপর ভিত্তি করে কাউকে সমাজে ব্যক্তিগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দেয়া হয়। আইনের দৃষ্টিতে এই রকম কার্যকলাপ আদালত কর্তৃক বিচারের আওতায় ও আসতে পারে।
মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হলেও মাঝে মাঝে যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কোন কোন কারনে আমাদের মধ্যে পারস্পারিক দূরত্বের সৃষ্টি হয়। এ রকম হওয়াটা কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয়। কিন্তু দেখা যায় এ রকম কোন ঘটনা ঘটলে কোন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পূর্ণ অসত্য আর বানোয়াট কল্পকাহিনীর অবতারণা করে অপর পক্ষকে টার্গেট করে ফেসবুক আর ইউটিউবে পোস্ট প্রদান আর ভিডিও আপলোড করতে থাকেন। আর এর ফলে উক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক আর সামাজিক জীবনে সম্মান আর মর্যাদার ক্ষেত্রে অনভিপ্রেত এক বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
দুঃখজনক হলো এই ধরনের প্রবণতা আমাদের সমাজে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসত্যের উপর ভিত্তি করে নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত এই সমস্ত কার্যকলাপ রোধে তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায় না। এই সব নিয়ে কখনো সখনো কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে ক্ষেত্র বিশেষে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সেই ব্যক্তির একাউন্ট কয়েক দিনের জন্য বন্ধ করে দেন। এরকম ঘৃণিত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের গৃহীত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় একেবারেই নগণ্য।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক আর ইউটিউবে সম্পূর্ণ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে যেভাবে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক আর পারিবারিক জীবনকে বিষময় করে তোলা হচ্ছে তা প্রতিরোধ করার জন্য একটি কার্যকরী আইনী ব্যবস্থা থাকা দরকার। কারন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয় নিয়ে মিথ্যাচার প্রকারান্তরে সেই ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘনেরই সামিল।
“আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে,
আর
আমার (আপনার) পরান যাহা চায়”
এই তত্ত্বে বিশ্বাস করে আপনি নির্জলা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে কোন কোন নিরপরাধ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলবেন আর এটা করে আপনি পার ও পেয়ে যাবেন সেটা তো হতে দেয়া উচিত নয়। এই জঘন্য অপরাধ রোধে যথাযথ সামাজিক আর আইনী নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত জরুরী। এই সব ঘৃণিত কার্যকলাপ বন্ধে এখন থেকেই কোন প্রকার কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনে এই প্রবণতা অতি দ্রুত বেড়ে গিয়ে এক সময়ে সমাজে তা মহামারীর মতই ছড়িয়ে পড়বে।
টরন্টো, কানাডা
