
এয়ারক্র্যাফট এক্সিডেন্ট এর দুর্ভাগ্য অনেকটাই অভিমানী আত্মঘাতী নোট না রেখে যাওয়া হতভাগ্যে ভুক্তভোগীর মতো। মৃত্যুর পর প্রকৃত কারণ জানা ভীষণ কঠিন। কারণ কেউ বেঁচে নেই যে প্রকৃত সত্যটি প্রকাশ করবে। তাই এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ভীষন মারাত্মক জীবন নাশ করা দুর্ঘটনা।শুধু তাই নয়। দেহ চিনহিত করার জন্য ডি এন টেস্ট এর প্রয়োজন হয়।
আর উড্ডয়নের সময় বিধ্বস্ত হ’লে এয়ারক্রাফট এ ফুল ফুয়েল থাকলে বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথে বিমানে আগুন ধরে যায়। যার ফলে জীবনগুলো জীবিত অবস্থায় পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়! কি ভয়ংকর !
তাহলে এই নিরপরাধ জীবন নাশের দায় কার ❓
এর সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা বিধান করা কি সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে আদৌ সম্ভব ?
যাহোক এয়ার ইন্ডিয়া এ আই ১৭১ ফ্লাইটের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রদানের আজ তারিখ ছিলো।
যদিও অফিশিয়ালি প্রকাশ করা হয়নি।তবে ওই রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে এটি ডুয়াল ইঞ্জিন ফেইলিওর এর কারণে এই দুঘটনাটি ঘটেছে।
যাহোক, আপাতত জানা যাচ্ছে, দুটো ইঞ্জিনের ফুয়েল কাট অফ সুইচ অফ অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা অন অবস্থায় থাকার কথা ছিলো।ফুয়েল কাট অফ সুইচ অফ মানে হচ্ছে আল্টিমেটলি ইঞ্জিন শাট অফ।
কিন্তু কেনো ?
যদি টেক অফের আগে ইঞ্জিন ফুয়েল শাট অফ থাকে তাহ’লেতো টেক অফ করাই হতোনা!
তাহ’লে ?
পাইলট নিজেই অফ করেছিলেন ❓
প্রচুর বাক বিতন্ডা হচ্ছে এয়ারক্রাফট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
অনেক পাইলট বলছেন, কোন কারণে একটি ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেলে ফুয়েল কাট অফ সুইচ অফ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কাট অফ সুইচ এমন নয় যে একটি ধাক্কা লেগে বা খোঁচা লেগে বা অসাবধানতায় অন অফ হয়ে যায়। এই সুইচ কিছুটা এটির নির্দিষ্ট জায়গা থেকে টেনে সাম্নের দিকে আনতে হয় আনলক অবস্থায় আনার জন্য, তারপর অফের জন্য টার্ন ডাউন করতে হয়। অর্থাৎ এটি একটি প্রসিডিওর। যা স্টেপ বাই স্টেপ করতে হয়। অর্থাৎ ম্যানুওভার করতে হয়। যা এমনি এমনি অসাবধানতা বসত অবশ্যই ঘটেনি। এটিকে অবশ্যই অপারেট করতে হয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে ফুয়েল কাট অফ সুইচ অফ কিভাবে হ’লো
? কেনো হলো ❓
সম্ভাব্য কারণ এমন হতে পারে, লেফট ইঞ্জিন কোন কারণে নষ্ট হওয়ায় ভুল বশত রাইট ইঞ্জিন ফুয়েল শাট অফ সুইচ অফ করা হয়ে গেছে।যার কারণে দুটো ইঞ্জিনের কার্যকারিতাই এক সাথে বন্ধ হয়ে গেছে। এটি এজন্যেই বলা হচ্ছে যে দুটো ইঞ্জিন কখনোই এক সাথে নষ্ট হওয়ার ঘটনা দুর্লভ। অনেক সময় ইঞ্জিনে পাখীর আঘাতের কারণে ঘটতে পারে যেটি ২০০৯ এ হাডসন রিভার এ যেটি ঘটেছিলো।
যদি তা না হয়, তবে এমনও হতে পারে ,পাইলট যখন বুঝে গিয়েছিলো মৃত্যু অবধারিত, তখন হয়তো পুড়ে যাওয়া রোধ করতে ফুয়েল সুইচ অফ বাটন অফ করে দিয়েছিলেন ক্র্যাশ এর ঠিক আগ মুহূর্তে !
আবার এমনও হতে পারে ,ফুয়েল সুইচ অফ বাটন অফ করে আবার অন করতে চেয়েছিলেন রিসেট করার জন্য। অফ করে আর রিসেট করার সুযোগ হয়নি। তার আগেই বিদ্ধস্ত।
সবচেয়ে ভয়ানক কথা হচ্ছে , অনেকেই ক্যাপ্টেন এর দিকে অন্যভাবে আঙুল তুলতে চাচ্ছেন !
তারা অন্য ইংগিত দিতে চাচ্ছেন যা অসত্য হলে প্রমাণ করার কেউ বেঁচে নেই।
দুর্ভাগ্য !
টরন্টো, কানাডা
