নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অলিভিয়া চাউ: জন টরির না থাকার সুযোগে দৃঢ় হচ্ছেন টরন্টোর বর্তমান মেয়র

টরন্টোর বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউ আগামী মেয়র নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে

টরন্টোর বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউ আগামী মেয়র নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন মেয়র জন টরি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আর মেয়র পদে লড়বেন না। এর পরপরই চাউ তার সম্ভাব্য পুনঃপ্রার্থিতার পরিকল্পনাকে আরও সুসংগঠিত করছেন, যা নগর রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অলিভিয়া চাউয়ের জনপ্রিয়তা এখন উর্ধ্বমুখী। লিয়াজো স্ট্রাটেজিস পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, যদি আজই নির্বাচন হতো, তাহলে ৩৯% ভোটার তাকে ভোট দিতেন। জন টরির অনুপস্থিতিতে এই সংখ্যা বেড়ে ৪৬%-এ পৌঁছাতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া, চাউ প্রশাসনের কাজের প্রতি ইতিবাচক মূল্যায়ন দিয়েছেন ৫১% উত্তরদাতা।

- Advertisement -

২০২৩ সালের উপনির্বাচনে অলিভিয়া চাউ এক ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে টরন্টোর প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত ও প্রথম নারী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়র হিসেবে তার কার্যকালজুড়ে তিনি হাউজিং অ্যাফোর্ডেবিলিটি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং গণপরিবহন উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছেন।

বর্তমানে তিনি “স্ট্রংগার টরন্টো” নামে একটি নতুন নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন, যার অংশ হিসেবে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। সম্প্রতি টরন্টো রিজিওন অব ট্রেড–এর এক অনুষ্ঠানে চাউ বলেন, “এই শহরের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের মানুষের জন্য সুযোগ, নিরাপত্তা ও বাসযোগ্যতা একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।”

জন টরির প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা চাউয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চাউয়ের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম এখনো স্পষ্ট নয়। ব্রাডফোর্ড, এ্যানাবাইলো ও এ্যানা ফুরে–এর মতো কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও তারা কেউই চাউয়ের জনপ্রিয়তার ধারে-কাছেও নেই।

অন্যদিকে, টরন্টোর ভোটারদের কাছে আগামী নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ (৩১%), আবাসন সংকট (২৮%) এবং ট্রানজিট ব্যবস্থা (২০%)। এই ইস্যুগুলোর ওপর ভিত্তি করেই মূলত নির্বাচনী প্রচার এবং প্রতিশ্রুতি গঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “চাউয়ের নেতৃত্ব নগরবাসীর মধ্যে স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দিয়েছে। তার নীতিমালাগুলো আরও সুসংহত করা গেলে এবং তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে, তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই জোরালো।”

যদিও নির্বাচনী প্রচার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি, তবে অলিভিয়া চাউয়ের প্রতিটি পদক্ষেপেই স্পষ্ট—তিনি ফের মেয়র হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জন টরির অনুপস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে, চাউ তার অবস্থান আরও মজবুত করার দিকে এগিয়ে চলেছেন।

সময়ই বলে দেবে—টরন্টো আবারো কি অলিভিয়া চাউকেই মেয়র হিসেবে বেছে নেবে? আপাতত, সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে নগরের জনমত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

- Advertisement -

Read More

Recent