
অন্টারিও প্রদেশে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের লাগামছাড়া উল্লম্ফনের প্রেক্ষাপটে, প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সরকার সম্প্রতি একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছে হাউজিং সংকট নিরসনের লক্ষ্যে। প্রাদেশিক সংসদে পাস হয়েছে নতুন আইন প্রটেকটিং অন্টারিও বাই বিল্ডিং ফাস্টার এন্ড স্মার্টার এ্যাক্ট ২০২৫, যা আবাসন নির্মাণে গতি আনার পাশাপাশি উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাসের কথা বলছে।
এই আইনের মূল লক্ষ্য হল ২০৩১ সালের মধ্যে অন্টারিওতে অন্তত ১৫ লাখ নতুন ঘর নির্মাণ করা। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে প্রতি বছর গড়ে অন্তত ১.৫ লাখ ইউনিট নির্মাণ করতে হবে। অথচ সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে নির্মিত হয়েছে মাত্র ৭১,৮০০ ইউনিট, আর ২০২৫ সালের প্রজেকশনেও সংখ্যা বাড়বে সামান্য ৭৪,৮০০ ইউনিট পর্যন্ত। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল সরকারি অর্থায়ন কর্মসূচি এইচইডাব্লিউএসএফ এবং বিল্ডিং ফিউচার ফান্ড যাদের সম্মিলিত বরাদ্দ ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
নতুন আইনের অন্যতম পরিবর্তন হলো হাউজিং প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা। এখন থেকে ‘কমপ্লিট এ্যাপলিকেশন্স’-এর সংজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, ফলে প্রাথমিক স্তরে আর জটিল টেকনিক্যাল প্রতিবেদন বা পরিবেশগত বিশ্লেষণ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। সরকার আশা করছে, এতে করে প্রতিটি প্রকল্প অনুমোদনে অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় কম লাগবে।
এছাড়া নতুন নির্মাণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপম্যান্ট চার্জ-এ ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্মাণ ব্যয় কমে এবং বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ বাড়ে। সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ সরাসরি বাজারে বাড়ি নির্মাণের গতি বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা-যোগানের ভারসাম্য রক্ষা করবে।
তবে সরকারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার সমালোচনাও কম নয়। বহু বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীর মতে, শুধু নির্মাণ গতি বাড়িয়ে হাউজিং সংকট সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষ করে সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং নিম্নআয়ের মানুষের উপযোগী ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন আইনে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।
বেসরকারি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মৈত্রী ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই আইন মূলত বাজার নির্ভর, যা মূলত উচ্চ ও মধ্যবিত্তের জন্য। অথচ যাদের ঘর দরকার সবচেয়ে বেশি কম আয়ের পরিবার, নবাগত অভিবাসী ও গৃহহীনরা তাদের জন্য এই পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য কিছু নেই।”
নতুন আইনে প্রাথমিক স্তরে পরিবেশগত মূল্যায়ন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও পরিবেশবাদীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, তাড়াহুড়োর এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে প্রকৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে জলাভূমি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোর্ড সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দ্রুততর এবং নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার প্রতিফলন। তবে পরিকল্পনার টেকসইতা নির্ভর করবে এই প্রকল্পগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়, এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য কতটা সমান সুযোগ তৈরি করে।
অন্টারিওর নাগরিকরা এখন অপেক্ষায়, এই আইন কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রদর্শনী হয়ে থাকবে, না কি সত্যিই হাউজিং সংকটে এক কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দেবে। সময়ই তা বলে দেবে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
