স্কারবোরো সাবওয়ে প্রকল্পে বড় ধাক্কা: এলআরটি নয়, চালু হবে সম্পূর্ণ সাবওয়ে—চূড়ান্ত সময়সীমা ২০২৯

প্রথমে লাইট রেল ট্রানজিট হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তীতে এই প্রকল্পটিকে রূপ দেওয়া হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ সাবওয়ে লাইনে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আশার আলো দেখছে পূর্ব টরন্টোর ব্যস্ত জনপদ স্কারবোরো। বহুদিন ধরেই প্রতীক্ষিত স্কারবোরো সাবওয়ে এক্সটেনশন প্রকল্পে এসেছে নতুন গতি ও আশার বার্তা। বর্তমানে পুরোদমে চলছে এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ, যা শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথমে লাইট রেল ট্রানজিট হিসেবে পরিকল্পনা করা হলেও, পরবর্তীতে এই প্রকল্পটিকে রূপ দেওয়া হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ সাবওয়ে লাইনে। বর্তমানে ৭.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সম্প্রসারণ প্রকল্পে থাকছে তিনটি নতুন ভূগর্ভস্থ স্টেশন লরেন্স ইস্ট, স্কারবোরো সেন্টার ও ম্যাককোয়ান। এটি বিদ্যমান ব্লুর-ড্যানফোর্থ লাইনের (লাইন ২) কেনেডি স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বিস্তার লাভ করবে ম্যাককোয়ান পর্যন্ত।

- Advertisement -

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার, যার অর্থায়ন এসেছে তিন স্তরের সরকার যেমন ফেডারেল, প্রাদেশিক এবং টরন্টো সিটি প্রশাসন থেকে। যদিও এই সাবওয়ে চালু হওয়ার সময়সীমা পিছিয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়িয়েছে, তবুও বাসিন্দারা মনে করছেন, এই অপেক্ষা একদিন সার্থক হবে।

বর্তমানে স্কারবোরোর যাত্রীরা যে এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন, সেই এলআরটি বা এসআরটি লাইনটি ২০২৩ সালে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই লাইন ৩৮ বছর সেবা দেওয়ার পর অবশেষে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও যাত্রীচাপ সামাল দিতে না পারায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে এখন প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার যাত্রী বাস পরিষেবার উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নতুন সাবওয়ে চালু হলে এর সরাসরি উপকারভোগী হবেন স্কারবোরোর প্রায় ১.৫ লক্ষ বাসিন্দা। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন ডাউনটাউন টরন্টো যাতায়াত করেন, তারা কমপক্ষে ১০–১২ মিনিট সময় বাঁচাতে পারবেন, এটি তাঁদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।

নির্মাণকাজের কারণে কেনেডি স্টেশন ও আশেপাশের এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি। এতে রাস্তা, বাস রুট ও স্থানীয় ব্যবসা কিছুটা ব্যাহত হলেও, অনেকে মনে করছেন এই সাময়িক দুর্ভোগ ভবিষ্যতের বিশাল সুবিধার কাছে কিছুই নয়।

টরন্টোর পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু যাতায়াত নয়, এই প্রকল্প স্কারবোরোর অর্থনৈতিক কাঠামোতেও দারুণ প্রভাব ফেলবে। সাবওয়ে চালু হলে নতুন ব্যবসা, আবাসন প্রকল্প ও কর্মসংস্থান বাড়বে ফলে গোটা পূর্ব টরন্টো বদলে যাবে এক প্রাণবন্ত নগর অঞ্চলে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের ৫০% কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ২০২৬ থেকে স্টেশন ফিনিশিং ও রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হবে। ২০২৮ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং সব ঠিক থাকলে ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হবে এই নতুন সাবওয়ে লাইন।

স্কারবোরো সাবওয়ে প্রকল্প শুধু একটি ট্রানজিট ব্যবস্থা নয়, এটি টরন্টোর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সাম্যবোধের প্রতীক। এই সাবওয়ে চালু হলে পূর্ব টরন্টোর বাসিন্দারাও পাবেন একই মানের যোগাযোগ সুবিধা, যা এতদিন শহরের অন্য অংশের নাগরিকরা উপভোগ করে এসেছেন।

এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা যখন স্কারবোরোর বুকে ধ্বনিত হবে দ্রুতগতির ট্রেনের ছন্দ, আর যাত্রীরা বলবেন, ‘এই সেবাই আমরা চেয়েছিলাম’।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent