
টরন্টো শহরের ২০২৫ সালের বাজেট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ। ইতিহাসে অন্যতম বড় এই বাজেট পেশ করা হয়েছে এক বিপুল আর্থিক ঘাটতির প্রেক্ষাপটে, যেখানে পরিষেবা সংকোচন ও কর বৃদ্ধির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি সামলাতে শহর কর্তৃপক্ষ ৬.৯ শতাংশ সম্পত্তি কর বৃদ্ধির প্রস্তাব এনেছে, যার ফলে একটি সাধারণ পরিবারের বছরে গড়ে প্রায় ২১০ ডলার বেশি কর দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ১.৫ শতাংশ ‘সিটি বিল্ডিং ফান্ড লেভি’, যা শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা।
বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮.৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১৬.৬ বিলিয়ন ডলার করভিত্তিক এবং ২.২ বিলিয়ন ডলার রেটভিত্তিক অর্থায়ন। পাশাপাশি, আগামী ১০ বছরে ৫৯.৬ বিলিয়ন ডলার মূলধনী প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে যার মধ্যে অবকাঠামো, গণপরিবহণ ও আবাসন খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাঝেও মৌলিক পরিষেবাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেক বাসিন্দা ও বিশ্লেষক বলছেন, বাজেটটি যতটা না সমাধানমূলক, বরং তা সংকটেরই প্রতিফলন। শহরের জনপ্রিয় মেয়র অলিভিয়া চাউ নিজেও স্বীকার করেছেন টরন্টো বর্তমানে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নয় এবং প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের সাহায্য ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলো টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
তিনি বারবার উচ্চতর সরকার পর্যায়ে সহায়তার আবেদন করলেও, এখনো পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতি অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন বাজেট বিশ্লেষকরা।
শহরের অনেক বাসিন্দাই এই বাজেটকে ‘বোঝা কঠিন’ এবং ‘স্বচ্ছতার অভাব আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন। একাধিক নাগরিক ও সমাজকর্মী অভিযোগ তুলেছেন, কর বাড়ানো ছাড়া কোনও বিকল্প খোঁজার চেষ্টাই বাজেটে দেখা যায়নি। বিশেষ করে, পুলিশ বিভাগের বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকট কারণ, তার বিপরীতে স্কুল খাবার কর্মসূচি, কমিউনিটি সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও হাউজিং-এর মতো খাতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে টরন্টো শুধু একটি বাজেট সংকট নয়, বরং শাসন কাঠামোর এক গভীর জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কর বৃদ্ধি, পরিষেবা হ্রাস ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা মিলিয়ে শহরের নাগরিক আস্থা চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাঁদের মতে, টরন্টোর মতো দ্রুত বাড়তে থাকা শহরের জন্য একটি দৃঢ়, স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক রোডম্যাপ এখন সময়ের দাবি। শুধু কর বাড়ানো নয়, বরং সুশাসন, জনসম্পৃক্ততা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না করতে পারলে সংকট শুধু ঘনীভূতই হবে।
