
শহরের প্রাণকেন্দ্র ড্যানফোর্থ গতকাল রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে। বার্ষিক সামার ইভেন্টকে ঘিরে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে এলাকায়। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় পা রাখার জায়গা মিলছিল না।
দুই ধারে সাজানো রঙিন স্টল, সুগন্ধি খাবারের দোকান আর লাইভ পারফরম্যান্সে জমে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটক, পরিবার ও তরুণ-তরুণী সকলেই অংশ নেন এই আয়োজনের উচ্ছ্বাসে। শিশুদের জন্য ছিল নানা ধরনের রাইড ও গেমস, আর বড়দের আকর্ষণ করে হস্তশিল্প, পোশাক ও অলংকারের স্টল।
খাবারের দোকানগুলোতে ছিল বৈচিত্র্যের ছড়াছড়ি গ্রিক, ইতালিয়ান, এশিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের পদ উপভোগ করতে লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।
দিনভর মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনা। স্থানীয় ব্যান্ড থেকে শুরু করে আমন্ত্রিত শিল্পীরা তাদের পারফরম্যান্সে মাতিয়ে রাখেন দর্শকদের। সন্ধ্যার পর রঙিন আলো আর বিশেষ এফেক্টে সাজানো কনসার্টে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় ছিল টরন্টো সিটির বিশেষ নজরদারি। পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সারাদিন উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে কাজ করেন। ভিড় সামলাতে ড্যানফোর্থের কিছু রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ পার্কিং জোন।
উৎসবকে ঘিরে খুশি ব্যবসায়ীরাও। বিপুল ভিড় তাদের বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা প্রতিবছর এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন কারণ এটি শুধু বিনোদনের নয়, বরং শহরের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপভোগের এক অনন্য সুযোগ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ বছর দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল। তাই আগামী বছর আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উৎসব শেষ হলেও ড্যানফোর্থের রাস্তাঘাট ও দোকানপাটে এখনও সেই আনন্দঘন পরিবেশের ছোঁয়া টের পাওয়া যাচ্ছে।
