নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই

কানাডার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগাতার বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নতুন করে চাপে পড়ছে

কানাডার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগাতার বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নতুন করে চাপে পড়ছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭.২ শতাংশে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শাকসবজি, দুধ, মাংস ও শস্যজাত পণ্যের দামে। গত এক বছরে শাকসবজির দাম গড়ে বেড়েছে ১০ শতাংশ। এর মধ্যে পেঁয়াজ ও আলুর দাম প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আর টমেটো ও লেটুসের দাম বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ, ফলে একটি পরিবারকে প্রতি মাসে গড়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। মাংসের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে গরুর মাংসের দাম ১১ শতাংশ ও মুরগির মাংসের দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে।

- Advertisement -

শস্য ও তেলজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক বছরের ব্যবধানে গমের ময়দা ১৪ শতাংশ, ভেজিটেবল অয়েল ১৬ শতাংশ এবং চাল প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ডিম, রুটি ও সিরিয়ালের দামও ৭ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চার সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক বাজার খরচ গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত বেশি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের জটিলতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কানাডার জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার মূল কারণ। গত শীতের প্রচণ্ড ঠান্ডা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে তার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনও আমদানিকৃত খাদ্যের দাম বাড়িয়ে তুলছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা আগের মতো একসঙ্গে বেশি পরিমাণে পণ্য কিনতে পারছেন না। কেউ কম দামের ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় জিনিসের পরিমাণ কমিয়ে খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবারই মাসিক বাজেট পুনর্গঠনে বাধ্য হচ্ছেন।

সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, পরিবহন খরচে সহায়তা ও বাজার মনিটরিং জোরদারসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপের প্রভাব বাস্তবে খুব একটা চোখে পড়ছে না। কানাডিয়ান ফুড পলিসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ পরিবার মনে করছে আগামী ছয় মাসেও নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে।

খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এখন কানাডার সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

- Advertisement -

Read More

Recent