ভ্যাকেশনের বাজেট নেই কানাডিয়ানদের

গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে

অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের উর্ধ্বগতির কারণে কানাডিয়ানদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৫৭ শতাংশ কানাডিয়ান পরিবার ভ্যাকেশনের জন্য কোনো বাজেট রাখতে পারেনি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এবার ছুটি কাটাতে কোথাও যেতে পারছেন না।

গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ২০২৪ সালে অন্তত একবার ভ্রমণে গিয়েছিলেন ৪৭ শতাংশ কানাডিয়ান, কিন্তু চলতি বছরে এ হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৮ শতাংশে। প্রদেশভেদেও ভিন্নতা স্পষ্ট। অন্টারিওতে যেখানে মাত্র ৩৫ শতাংশ পরিবার ছুটি কাটানোর সুযোগ পেয়েছে, সেখানে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় এ হার কিছুটা বেশি, প্রায় ৪৫ শতাংশ। কুইবেক এবং আটলান্টিক কানাডাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

- Advertisement -

জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে তারা আর বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবতেও পারছেন না। প্রায় ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলছেন, গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যয় অন্তত দ্বিগুণ হয়েছে। শুধু বিমান ভাড়া বেড়েছে গড়ে ১৮ শতাংশ, হোটেল খরচ ১৫ শতাংশ, আর খাদ্য ও বিনোদনের অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হলে সাধারণ ভ্রমণ এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

যারা ছুটি কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই দেশীয় পর্যটনকে বেছে নিয়েছেন। ছোট শহর, ন্যাশনাল পার্ক কিংবা স্থানীয় আকর্ষণীয় স্থানে স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণই তাদের একমাত্র বিকল্প হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, এ বছর ৭১ শতাংশ কানাডিয়ান ভ্রমণকারী বিদেশের বদলে দেশীয় ভ্রমণকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ব্যয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সময় বাঁচানোও এ সিদ্ধান্তের বড় কারণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কানাডিয়ান পরিবারের মাসিক আয়ের বড় অংশ এখন খরচ হচ্ছে ভাড়া, খাদ্য এবং পরিবহনে। গত এক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ৭.২ শতাংশ, আবাসন ব্যয় বেড়েছে ১১ শতাংশ এবং জ্বালানির মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির কাছে ছুটি কাটানো এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবারই সন্তানদের জন্য স্থানীয় উৎসব, গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প বা পার্ক ভ্রমণকে একমাত্র বিনোদনের বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে কানাডার পর্যটন খাতে। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও ভ্রমণ সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, প্রত্যাশার তুলনায় ভ্রমণকারীর সংখ্যা অনেক কম, ফলে ব্যবসায়িক আয়ও কমেছে। যদিও দেশীয় ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করতে নানা ছাড় ও বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে খাতটির আয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আর অর্থনৈতিক চাপে কানাডিয়ানদের বড় অংশের কাছে ভ্যাকেশন এখন একেবারেই অপ্রাপ্য স্বপ্নের মতো। মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য ছুটি কাটানোর আনন্দ আপাতত অনেক দূরের ব্যাপার।

- Advertisement -

Read More

Recent