মুভারস স্কাম!

টরন্টোর এক বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবার জানান তারা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে একটি মুভিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন

টরন্টোতে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে “মুভারস স্ক্যাম” বা ভাড়াটে ট্রাক ও মুভিং কোম্পানির প্রতারণা। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীরা এই প্রতারণার মূল শিকার হচ্ছেন। কানাডায় আসার পর নতুন বাসা বা শহরে স্থানান্তর হওয়া অনেক সময় বাধ্যতামূলক হয়। আর এই সুযোগেই কিছু অসাধু মুভিং কোম্পানি গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে কিংবা তাদের মালামাল আটকে রেখে চাঁদাবাজি করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি মুভিং কোম্পানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বিজ্ঞাপন কিংবা ফেসবুক গ্রুপে অতি আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে। যেমন “মাত্র ২০০ ডলারে সম্পূর্ণ বাসা শিফটিং” বা “ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়া ছাড়, কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই”

- Advertisement -

কিন্তু বাস্তবে বুকিং করার পর মুভিংয়ের দিন এসে কোম্পানি নানা অজুহাতে খরচ বাড়িয়ে দেয়। অনেকে মাঝপথে ট্রাকে মালপত্র তুলে সেটিকে বন্ধক হিসেবে রেখে দেয় এবং বলে, “অতিরিক্ত টাকা না দিলে জিনিসপত্র নামানো হবে না।” ফলে নিরুপায় ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলার গুনতে হচ্ছে।

টরন্টোর এক বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবার জানান, তারা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে একটি মুভিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন। শুরুতে বলা হয়েছিল ৩৫০ ডলারে সবকিছু শেষ হবে। কিন্তু মুভিংয়ের দিন এসে কোম্পানি দাবি করে, তাদের মালামাল ভারী, তাই অতিরিক্ত ৭০০ ডলার দিতে হবে। টাকা না দিলে জিনিসপত্র নামাতে অস্বীকৃতি জানায় কর্মীরা। অবশেষে বাধ্য হয়ে পরিবারটি ১০৫০ ডলার পরিশোধ করে।

আরেকজন ভারতীয় ছাত্র জানান, সস্তা অফারের লোভে তিনি এক কোম্পানিকে বুক করেছিলেন। কিন্তু তারা আসার পর দেখতে পান, ট্রাকের আকার ছোট এবং প্রতিবার মাল তোলার জন্য আলাদা চার্জ নিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তার বাজেটের প্রায় তিনগুণ খরচ হয়েছে।

অন্টেরিও কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য। গ্রাহককে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই নতুন অভিবাসী হওয়ায় আইনগত জটিলতায় জড়াতে ভয় পান, এবং বিষয়টি রিপোর্ট না করে চুপ থাকেন।

ভোক্তা অধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন যে মুভিং কোম্পানি বাছাইয়ের আগে অবশ্যই তাদের রিভিউ এবং রেটিং যাচাই করতে হবে, শুধুমাত্র ফোনালাপ বা অনলাইন মেসেজে চুক্তি না করে, লিখিত কন্ট্রাক্ট নিতে হবে, “অস্বাভাবিকভাবে কম দাম” দেওয়া অফারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, সরকার অনুমোদিত বা নিবন্ধিত কোম্পানির সেবা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

টরন্টোতে মুভারস স্ক্যাম এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীরা যখন কাজ, বাসস্থান ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সংগ্রাম করছেন, তখন এমন প্রতারণা তাদের মানসিক ও আর্থিকভাবে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও কড়া আইন প্রয়োগ ছাড়া এ সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent