টরন্টো সিটির বাজেট ঘাটতি, কী করবেন মেয়র?

কানাডার সবচেয়ে বড় শহর টরন্টো বর্তমানে এক গভীর আর্থিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে

কানাডার সবচেয়ে বড় শহর টরন্টো বর্তমানে এক গভীর আর্থিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। চলতি অর্থবছরে টরন্টো সিটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি মেটানো না গেলে শহরের মৌলিক সেবা যেমন গণপরিবহন, হাউজিং, স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপন বিভাগ সবকিছুই বড় ধরনের চাপে পড়বে। প্রশ্ন উঠছে, মেয়র অলিভিয়া চাউ কীভাবে সামলাবেন এই চ্যালেঞ্জ?

অর্থনীতিবিদদের মতে, কয়েকটি প্রধান কারণে টরন্টোর বাজেট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যেমন – কোভিড-১৯ পরবর্তী চাপ – মহামারীর সময়ে সিটি সার্ভিসগুলির ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু আয় কমে যায়, গণপরিবহনের ভর্তুকি-তে যাত্রী কমে যাওয়ায় টিকিট বিক্রি থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী টরন্টোতে আসায় হাউজিং, আশ্রয়কেন্দ্র ও সামাজিক সেবার খরচ বেড়েছে এবং টরন্টো বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে শহরের পরিকাঠামো ও সামাজিক খাতে প্রয়োজনীয় ফান্ড যথেষ্ট পরিমাণে আসছে না।

- Advertisement -

মেয়র অলিভিয়া চাউ ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সিটি ট্যাক্স বাড়িয়ে এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। কারণ এতে বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। ফলে তিনি কয়েকটি পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন। যেমন – শরণার্থী সংকট ও পরিকাঠামো খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য অটোয়া থেকে বিশেষ অর্থায়নের আবেদন করা হয়েছে, অন্টারিও সরকারকে হাউজিং, স্বাস্থ্যসেবা ও গণপরিবহনে আরও অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন মেয়র, যেমন শহরের সম্পত্তি বিক্রয়, উন্নয়ন ফি বৃদ্ধি, বা যানবাহন নিবন্ধন ফি চালুর মতো উদ্যোগ আলোচনা চলছে, কম জরুরি খাতগুলিতে ব্যয় সংকোচন, যেমন কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্রকল্প স্থগিত করা হতে পারে।

শহরের সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, টরন্টোতে জীবনযাত্রার খরচ ইতিমধ্যেই উচ্চতম পর্যায়ে বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্য ও পরিবহন খরচ নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যদি আবার সম্পত্তি কর বা টিটিসি ভাড়া বাড়ানো হয়, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা আরও খারাপ হবে।

টরন্টোর বাজেট সংকট আসলে একটি বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন। কানাডার সবচেয়ে জনবহুল শহর হিসেবে টরন্টো দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও অর্থায়নের কাঠামো এখনো অনেকাংশে পুরোনো। নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, “শহর যখন জাতীয় অর্থনীতির ইঞ্জিন, তখন শুধুমাত্র প্রপার্টি ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করে বাজেট চালানো অবাস্তব।”

তাই টরন্টোর বাজেট সংকট কেবল একটি স্থানীয় ইস্যু নয়, বরং ফেডারেল ও প্রাদেশিক স্তরের নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া এটি সমাধান করা সম্ভব নয়। মেয়র চাউ সামনে যে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে চলেছেন, তা শুধু শহরের নয়, পুরো কানাডার আরবান পলিসির ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent