
শহরের ক্রমবর্ধমান তরুণ গৃহহীনতার সংকট মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার টরন্টো সিটি হলে আয়োজিত হলো একটি বিশেষ ইয়ুথ হোমলেসনেস সামিট। নীতিনির্ধারক, গবেষক, সেবামূলক সংস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসে খুঁজলেন ভবিষ্যতের সমাধানের পথ।
টরন্টো শহরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গৃহহীনদের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশই তরুণ। আর্থিক অনিশ্চয়তা, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি অভিবাসী ও শরণার্থী তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত সাপোর্ট সিস্টেম না থাকাই এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
সামিটে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেন যে, কেবল অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা নয়, বরং তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এছাড়াও সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির ওপর জোর দেন শহরের পরিকল্পনাবিদরা।
সামিটে উপস্থিত কিছু তরুণ তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কেউ বলছেন, ১৬ বছর বয়সে পারিবারিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছিল। কেউবা কলেজে ভর্তি হলেও ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে না পারায় আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের কণ্ঠস্বর আলোচনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলে।
টরন্টো মেয়র এবং কাউন্সিলররা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের মধ্যেই একটি ইয়ুথ-ফোকাসড হাউজিং স্ট্র্যাটেজি চালু করা হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম তৈরি করা হবে।
এই সামিটের তাৎপর্য হলো, এটি কেবল সংকট মোকাবিলার জরুরি প্রয়োজনই নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার একটি রূপরেখা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তরুণ গৃহহীনতা শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
