সিককিডস এখন বিশ্বের সেরা শিশু হাসপাতাল, কানাডার স্বাস্থ্যসেবার জন্য ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থার সর্বশেষ র‍্যাংকিংয়ে বিশ্বের সেরা শিশু হাসপাতালের মর্যাদা অর্জন করেছে টরন্টোর বিখ্যাত দ্য হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেন

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থার সর্বশেষ র‍্যাংকিংয়ে বিশ্বের সেরা শিশু হাসপাতালের মর্যাদা অর্জন করেছে টরন্টোর বিখ্যাত দ্য হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেন, যা সবার কাছে সিককিডস নামে পরিচিত। ৫০টিরও বেশি দেশের ২০০টিরও বেশি হাসপাতালকে মূল্যায়ন করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। শিশু রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল, রোগী নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষায়িত সার্জারির সাফল্য এবং অভিভাবকদের সন্তুষ্টি সব মিলিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে গড়ে ৯৫ শতাংশের বেশি স্কোর করে সিককিডস প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

হাসপাতালটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এর জটিল শিশু সার্জারি বিভাগ। বর্তমানে এখানকার জটিল সার্জারির সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশ, যা উত্তর আমেরিকার গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ সার্জন এবং অভিজ্ঞ নার্সিং টিম এই অসাধারণ সাফল্যের মূল কারণ।

- Advertisement -

প্রতি বছর সিককিডসে প্রায় ৩,৫০,০০০ আউটপেশেন্ট ভিজিট হয় এবং ১৬,০০০-এরও বেশি শিশু ভর্তি হয়। শিশু চিকিৎসা গবেষণায় হাসপাতালটির বিনিয়োগও বিস্ময়কর প্রতি বছর প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। এর ফলেই ক্যান্সার ও বিরল জেনেটিক রোগের জন্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, উদ্ভাবনী ওষুধ এবং জিন থেরাপির পথ সুগম হয়েছে। সম্প্রতি এখানকার গবেষকরা শিশুদের জন্য নতুন মিনিমালি-ইনভেসিভ হার্ট সার্জারি টেকনিক উদ্ভাবন করেছেন, যা অপারেশনের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় গড়ে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে।

রোগী সন্তুষ্টির ক্ষেত্রেও সিককিডসের অবস্থান শীর্ষে। এক সাম্প্রতিক জরিপে ৯৭ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন, তারা চিকিৎসা ও নার্সিং পরিষেবায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট। হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রোগ্রাম বহু পরিবারকে বড় সহায়তা দিয়েছে। শিশু মনোরোগ ক্লিনিক প্রতি বছর প্রায় ২৫,০০০ শিশু-কিশোরকে সেবা দিচ্ছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার ১৫ শতাংশ কমেছে।

এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন টরন্টোর মেয়র এবং অন্টারিওর স্বাস্থ্য মন্ত্রী। তাদের মতে, এই অর্জন শুধু একটি হাসপাতালের নয়, পুরো কানাডার স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার সক্ষমতার প্রতীক। র‌্যাংকিংয়ের প্রভাবে আন্তর্জাতিক রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা কানাডার মেডিকেল ট্যুরিজম খাতকে শক্তিশালী করবে। গত বছর আন্তর্জাতিক রোগী সেবা থেকে হাসপাতালটি প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করেছে, যা আগামী দুই বছরে দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সাফল্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালটির আরও তহবিল, নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। বর্তমানে সিককিডসের শয্যা দখল হার প্রায় ৯০ শতাংশ, যা মহামারী-পরবর্তী সময়ে অনেক সময় ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, নতুন অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া এই মান বজায় রাখা কঠিন হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সিককিডসের এই অর্জন পুরো কানাডিয়ান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উৎকর্ষের প্রতীক। সঠিক বিনিয়োগ ও গবেষণার সমন্বয় হলে শিশু চিকিৎসায় কানাডা যে বিশ্বে শীর্ষস্থানে থাকতে পারে, সিককিডস তা প্রমাণ করেছে।

সবশেষে বলা যায়, সিককিডস হাসপাতালের এই সাফল্য শুধু টরন্টোর শিশুদের নয়, বরং বিশ্বের লাখো পরিবারের জন্যও এক অনুপ্রেরণার আলো। চিকিৎসক, নার্স, গবেষক ও কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমই এই গৌরবের ভিত্তি। স্বাস্থ্যসেবার মান ধরে রাখার এই প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতেও সিককিডসকে শিশু চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে সাহায্য করবে।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent