হাই রিস্ক ট্রাভেলারদের নিয়ে কানাডার সীমান্তে কড়া সতর্কতা, নজরদারি বেড়েছে কয়েকগুণ

কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মধ্যে হাই রিস্ক বা উচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরির যাত্রীদের ওপর নজরদারি বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে

কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মধ্যে “হাই রিস্ক” বা উচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরির যাত্রীদের ওপর নজরদারি বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, গত এক বছরে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় নিষিদ্ধ পণ্য, অবৈধ মাদক, অনিয়মিত নগদ অর্থ এবং ভুয়া ভ্রমণ নথি নিয়ে ধরা পড়ার ঘটনা প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এই উদ্বেগজনক বৃদ্ধির কারণে সীমান্তে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের শনাক্ত ও আটক প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে।

কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি-র সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৯ কোটি যাত্রী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে কানাডায় প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে আনুমানিক ২ শতাংশ যাত্রীকে “হাই রিস্ক” তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে গড়ে ২ জনকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই কঠোর নজরদারির ফলে শুধু গত বছরেই ২৫ টনের বেশি অবৈধ মাদক, ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ঘোষণাবিহীন নগদ অর্থ এবং ২,০০০-এর বেশি নকল ভিসা ও পাসপোর্ট জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

- Advertisement -

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের শনাক্ত করতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর যাত্রী স্ক্রিনিং সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রযুক্তি যাত্রীদের ভ্রমণ ইতিহাস, টিকিট বুকিংয়ের ধরন, গন্তব্য দেশ এবং পেমেন্ট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত আগেভাগে শনাক্ত করতে সক্ষম। CBSA জানিয়েছে, এআই-ভিত্তিক এই স্ক্রিনিংয়ের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী শনাক্তকরণের হার আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল সাধারণ যাত্রীদের জন্য কিছুটা বাড়তি সময় ও ঝামেলা তৈরি করছে। বিমানবন্দরের কিছু টার্মিনালে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষার সময় বেড়ে গেছে। ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ লাইন ও অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তরের কারণে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি জানিয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে তারা অতিরিক্ত স্টাফ নিয়োগ ও শিফট বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি স্পষ্ট করেছে যে এই নতুন ব্যবস্থা মূলত লক্ষ্য করছে এমন যাত্রীদের, যারা অল্প সময়ে একাধিক উচ্চ ঝুঁকির দেশে যাতায়াত করেছেন বা যাদের পাসপোর্টে অসঙ্গতিপূর্ণ ভিসা এন্ট্রি রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ৮,০০০ যাত্রীকে অতিরিক্ত স্ক্রিনিংয়ের পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এদের মধ্যে কয়েকশ জনকে অপরাধমূলক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাড়তি সতর্কতা সঠিক সময়ে এসেছে। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র কানাডাকে অবৈধ পণ্য পাচারের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষত ফেন্টানিলের মতো শক্তিশালী মাদক এবং অর্থপাচারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তে জিরো টলারেন্স নীতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

সামাজিক সংগঠনগুলো অবশ্য এই উদ্যোগে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে, অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ ও চেকিং প্রক্রিয়ায় যেন যাত্রীদের নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়। কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি আশ্বস্ত করেছে যে সব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান বজায় রেখে নেওয়া হচ্ছে এবং যাত্রীদের মর্যাদা রক্ষা করা হবে।

সব মিলিয়ে কানাডার সীমান্তে এখন এক নতুন মাত্রার নিরাপত্তা কার্যকর হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বার্তা স্পষ্ট যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথি, ঘোষণাপত্র এবং সঠিক তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে। নিয়ম মানলে চিন্তার কিছু নেই, তবে আইন ভঙ্গকারীদের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর থাকবে। সীমান্ত কর্মকর্তাদের মতে, তাদের লক্ষ্য একটাই: বৈধ যাত্রীদের দ্রুত প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের শনাক্ত করে কানাডাকে আরও নিরাপদ রাখা।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent