
উত্তর আমেরিকায় এ বছর হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, এ পরিস্থিতির মূল কারণ হলো টিকাদানের হার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কমে যাওয়া। সংস্থাটি সতর্ক করেছে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দশটি দেশে মোট ১০ হাজার ১৩৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১১ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ গুণ বেশি।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে কানাডায়। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যা মহাদেশের মোট সংক্রমণের প্রায় অর্ধেক। সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আলবার্টা, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ম্যানিটোবা এবং অন্টারিও প্রদেশ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এ পরিস্থিতির জন্য বড় দায়ী। হামের বিস্তার রোধে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার হার কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন, অথচ বর্তমানে কানাডায় এ হার মাত্র ৭৯ শতাংশ। ফলে সংক্রমণ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে মেনোনাইট ও কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে টিকাদান এড়িয়ে চলার প্রবণতা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় হামে আক্রান্ত হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মেক্সিকোতে ১৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনজন, এবং কানাডায় একজন নবজাতক প্রাণ হারিয়েছে।
মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া অঞ্চল সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, যেখানে ৩ হাজার ৯১১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে ইতোমধ্যেই গণ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে মৃত্যুহার সাধারণ জনগণের তুলনায় ২০ গুণ বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১টি রাজ্যে মোট ১ হাজার ৩৫৬ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং যথাসময়ে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কানাডা ও অন্যান্য দেশকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে – উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও কমিউনিটিগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান, টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রচারাভিযান, বিদ্যালয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়ানো এবং অভিভাবকদের সন্তানদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে কার্যকর যোগাযোগ কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং জনস্বাস্থ্য নীতির জন্যও এক বড় পরীক্ষা। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে কানাডা ও উত্তর আমেরিকার অন্যান্য দেশে শিশুদের মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
