
কানাডার খুচরা বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ সুপারমার্কেট চেইন মেট্রো জানিয়েছে, তাদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী ইতোমধ্যেই দাম বাড়িয়েছে। কোম্পানির দাবি, এই পরিস্থিতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধের শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের প্রভাব।
মেট্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক লা ফ্লেচ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে শুল্ক একটি বড় চালিকাশক্তি। সরবরাহকারীরা বারবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছে, আর মেট্রোর ক্রয়-বিভাগ এ নিয়ে কঠোর দর-কষাকষি করছে। লক্ষ্য একটাই খুচরা ক্রেতাদের ওপর চাপ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।
তিনি স্বীকার করেছেন, যদিও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি, তবে আগামী মাসগুলোতে দোকানে গিয়ে ভোক্তারা মূল্যবৃদ্ধির চাপ স্পষ্টভাবে অনুভব করবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি করা খাদ্য ও ওষুধের ওপর বাড়তি শুল্কের কারণে কানাডায় খরচ বেড়েছে। একইসঙ্গে, পাল্টা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পণ্যও এখন বেশি দামে ঢুকছে কানাডার বাজারে। ফলে সুপারমার্কেটগুলোকে অতিরিক্ত খরচ গুনে পণ্য কিনতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার উপর এসে পড়ছে।
তথ্য বলছে, কানাডায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যেই জাতীয় গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। দুধ, মাংস, শাকসবজি, বেকারি পণ্যসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মেট্রো জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করছে যাতে দাম একসঙ্গে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হয়। এতে ক্রেতারা হঠাৎ চাপে না পড়ে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারবেন। তবে যেসব পণ্য কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-এর আওতায় আছে, সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য নয়। ফলে ওইসব খাদ্যপণ্য ও কিছু দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল।
এরিক লা ফ্লেচের ভাষায়, “আজকের ক্রেতারা অনেক বেশি মূল্যসংবেদনশীল। সবাই সেরা মূল্যের সন্ধান করছে।” তিনি বলেন, বাজার ধরে রাখতে কোম্পানি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে দর-কষাকষি ও পরিকল্পিত মূল্যনীতি দিয়ে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের নীতি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে খাদ্যপণ্যের দাম অবশ্যই বাড়তে থাকবে। এতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সরকার চাইলে নীতি-হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অন্তত প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
পরিস্থিতি স্পষ্ট কানাডায় খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার প্রবণতা থামছে না। বাণিজ্য যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব এখন সরাসরি পৌঁছে গেছে কানাডার বাজারে। ভোক্তার পকেট এখন অনেকটাই শুল্কনীতির হাতে বাঁধা। সরকার এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা যদি দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নেয়, তবে আগামী মাসগুলোতে কানাডার সাধারণ মানুষের বাজারের ঝুড়ি আরও হালকা হতে বাধ্য।
