
মন্ট্রিয়েলে গত কিছুদিন যাবত সব কিছুতে কেমন ঢিলেঢালা। শপিংমল, রেস্টুরেন্ট,বার, ক্লাবগুলোতে তেমন মানুষজনের ভীড়বাট্টা নেই। বেচাকেনা খুবই কম। আমার পরিচিত মাইক হের্জাল্ডকে জিগেস করেছিলাম, কারন কী?
সে জানালো রোশ হাশানার প্রভাব।
এটা আবার কি?
রোশ হাশানা হচ্ছে ইহুদীদের ধর্মীয় উৎসব। আটদিনব্যাপী চলে। তখন ইহুদী অধ্যুষিত অঞ্চলের ব্যবসা বানিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
হুম।
২.
আমি মাইকের কাছে শুনেই গুগল সার্চ করে জানার চেস্টা করি রোশ হাশানার ইতিবৃত্ত।
ইহুদীরা ঈশ্বরের মানুষকে সৃষ্টি করার দিনটিকে নববর্ষ হিসেবে পালন করেন।তাদের বিশ্বাস, ‘রোশ হাশানা’র দু’দিনে ঈশ্বর তাঁর বিচার সম্পূর্ণ করেন এবং মানবজাতির ভবিষ্যত নির্ধারণ করে দেন। এই উৎসবের দিনেই ইহুদিরা ঈশ্বরের কাছে কৃতকর্মের জন্য বিচার প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের ক্ষমা ও অনুগ্রহ ভিক্ষা করেন। এই উৎসবের মাধ্যমেই ইহুদি নববর্ষের সূচনা হয়।
‘রোশ হাশানা’–র দশ দিন পর ইয়োম কিপপুর উৎসব পালিত হয়। এই দিনেই ঈশ্বর ইহুদিদের ক্ষমা প্রদর্শন করেছিলেন। এই দিন ইহুদিরা যাবতীয় পাপ ও অশুভ কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্তের জন্য উপবাস পালন করেন ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে প্রায়শ্চিত্ত করেন।
এর বাহিরে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে পাসওভার। সেটাও তারা দশদিনব্যাপী পালন করে।
৩.
ইহুদীদের এগারোদিনের ধর্মীয় উৎসব চলছে। এসময় তারা খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া বের হয় না। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দিনগুলো পালন করে।
আমি যেখানটায় থাকি তার অদুরে দ্যু পার্ক এভিনিউ।একসময় খুব যাতায়াত ছিল। প্রতিদিন শতশত ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের সাথে দেখা হতো। তারা সহজে কারো সাথে মিশতো না। নিজেদের স্বাতন্ত্র বজায় রেখে চলাফেরা করতে দেখতাম। ওয়েস্ট মাউন্ট, শেরব্রুক ওয়েস্ট, আকাডি অঞ্চলেও প্রচুর ইহুদীর বসবাস। এসব অঞ্চলে যাতায়াতের কারনে প্রায় দেখি তাদের। শেরব্রুকে বেশ ক’জন কট্টর ইহুদী ধর্মাবলম্বীর সাথে মাঝে মাঝে হাই হ্যালো হতো। এর বাহিরে তাদের কথা বলার কোন আগ্রহ দেখিনি।
সকল ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের রোশ হাশনা উৎসবের শুভেচ্ছা।
