
কানাডার শ্রমবাজার আগামী কয়েক বছরে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যেখানে কর্মীর সংখ্যা সীমিত হলেও তাদের বেতন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। থিংক ট্যাংক দি কনফারেন্স বোর্ড অব কানাডা এর সোমবার প্রকাশিত নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতি এবং সরকারি অভিবাসন সীমাবদ্ধতার নীতি শ্রমবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর ফলে শ্রমশক্তির সরবরাহ সীমিত হচ্ছে, যা কর্মীদের জন্য একটি বিরল সুযোগ তৈরি করছে। থিংক ট্যাংকটি মনে করছে, সীমিত সংখ্যক শ্রমিক পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই বেতন বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি সত্ত্বেও কানাডার শ্রমবাজার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্যমতে, মে মাসে জাতীয়ভাবে কর্মসংস্থান ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। যদিও সামগ্রিক কর্মসংস্থানের হার গত বছরের তুলনায় মাত্র ০.৩ শতাংশ বেশি, তবুও বোর্ডটি মনে করছে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।
তবে, নিয়োগ বৃদ্ধি সাময়িকভাবে হ্রাস পেতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অস্থিতিশীলতা ব্যবসায়িক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নতুন অভিবাসীর সংখ্যা কমার কারণে শ্রমশক্তির বৃদ্ধি ধীর হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মী পাওয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে।
কনফারেন্স বোর্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে শ্রমশক্তির বৃদ্ধি মোট কর্মসংস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। এটি গত দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো লক্ষ্য করা গেছে। এর অর্থ, কানাডায় শ্রমিক সংকট আরও প্রকট হবে এবং নিয়োগদাতারা সীমিত সংখ্যক দক্ষ কর্মী পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় নামবে।
বোর্ডটি বিশ্লেষণ করেছে, “শ্রমবাজারে কর্মীর অভাব এবং নতুন নিয়োগে বাধা ব্যবসাগুলোকে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখতে আরও বেশি মজুরি দিতে বাধ্য করবে। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে কানাডিয়ানদের বেতন বৃদ্ধি হবে তুলনামূলকভাবে দ্রুত।”
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে মজুরি বৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসের বৃদ্ধির সঙ্গে সমান। এই প্রবৃদ্ধি বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করছে এবং বেকারত্বের হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। কনফারেন্স বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বেকারত্ব হার কমে ৬.২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন মধ্যম আয়ের কানাডিয়ানদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তবে, এটি ব্যবসায় খাতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মূল্যনীতি, নিয়োগ কৌশল এবং কর্মী রক্ষা নীতি পুনর্বিন্যস্ত করতে হতে পারে।
কনফারেন্স বোর্ডের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই বছরে কানাডার সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশ সীমিত থাকতে পারে। এর পেছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাধা, মার্কিন শুল্কনীতি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতার ধীরগতি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বোর্ড আশা করছে যে, সীমিত শ্রমশক্তি এবং বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়বে, যা অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “দক্ষ কর্মী পাওয়াই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। যারা দক্ষতা অর্জনে বিনিয়োগ করছে, তাদের জন্য উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।”
জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, অভিবাসন সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ কানাডার শ্রমবাজারকে এক নতুন রূপে গড়ে তুলছে। তবে এর মধ্যেই কর্মীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যেখানে তাদের দক্ষতা ও শ্রমের মূল্য আগের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
