অন্টারিও সরকারের বিজ্ঞাপন সফল

বিজ্ঞাপনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ১৯৮৭ সালের এক অডিও ক্লিপ যেখানে তিনি শুল্কনীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন

অন্টারিও সরকারের তৈরি একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠলেও, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিজ্ঞাপনটিই তার উদ্দেশ্য পূরণে সফল হয়েছে। যদিও প্রাদেশিক কর্মকর্তারা যে প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন তা পুরোপুরি মেলেনি, তবে বিজ্ঞাপনটি রাজনৈতিক যোগাযোগের কৌশলগত দিক থেকে বেশ কার্যকর হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ১৯৮৭ সালের এক অডিও ক্লিপ, যেখানে তিনি শুল্কনীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। সেই অডিও অংশটি বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়, যা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি এক ধরনের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়।

- Advertisement -

এই বিষয়টি নিয়েই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বিজ্ঞাপনটিকে “ভুয়া” বলে সমালোচনা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনাও স্থগিত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তিনি কানাডার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক আসন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।

অ্যাকাডিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বার্তা বিষয়ক বইয়ের লেখক আলেক্স মারল্যান্ড মনে করেন, বিজ্ঞাপনটি তার লক্ষ্য অর্জনে “সার্থক”। তাঁর ভাষায় – “একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে ভাবাতে বাধ্য করা, তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা। অন্টারিও সরকারের এই বিজ্ঞাপন সেটাই করেছে। এটি প্রেসিডেন্টকে বিচলিত করেছে, যা এক অর্থে সফলতার চিহ্ন।”

মারল্যান্ড আরও বলেন, অন্টারিও সরকার তাদের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ মার্কিন জনমনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা পুরোপুরি অর্জন করেছে কিনা, তা আলাদা প্রশ্ন। কিন্তু জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে সফল একটি ক্যাম্পেইন।

রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যনীতিতে প্রচারমূলক বার্তার প্রভাব ব্যাপক। এই বিজ্ঞাপনটি যুক্তরাষ্ট্রের জনসাধারণের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মূলধারার গণমাধ্যমেও স্থান করে নিয়েছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো “তথ্যের বিকৃতি নয়, বরং আবেগ ও মনোযোগ তৈরি করা।” সেই জায়গায় এই প্রচারণা কৌশলগতভাবে সফল হয়েছে।

প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানিয়েছেন, অন্টারিও সরকার ৭৫ মিলিয়ন (সাড়ে সাত কোটি) ডলারের এই ক্যাম্পেইন সোমবার শেষ করবে। তাঁর ভাষায় – “আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি। সর্বাধিক সংখ্যক মার্কিন নাগরিকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছি, সেটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।” তিনি আরও জানান, বিজ্ঞাপনটি সপ্তাহান্তেও প্রচারিত হবে এবং জনপ্রিয় বেসবল টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ চলাকালেও সম্প্রচারিত হবে, যাতে এর প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজ্ঞাপন হয়তো সরাসরি বাণিজ্যনীতিতে পরিবর্তন আনবে না, কিন্তু এটি “মনস্তাত্ত্বিক রাজনীতি”-র এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে কানাডার একটি প্রাদেশিক সরকারের প্রচারণা আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে এটিই এর সবচেয়ে বড় অর্জন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, অন্টারিও সরকারের এই প্রচারণা প্রমাণ করেছে যে, কৌশলগত যোগাযোগে কখনও কখনও একটি ছোট বার্তাই বড় প্রভাব ফেলতে পারে বিশেষ করে যখন সেটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

- Advertisement -

Read More

Recent