
অন্টারিও সরকার প্রদেশটির ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় আরও ৪০ সেন্ট বৃদ্ধি করে ১৭.৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে। অন্টারিও কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) অনুযায়ী এই সমন্বয় করা হয়েছে, যা বার্ষিক ২.৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির প্রতিফলন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির ফলে প্রদেশজুড়ে প্রায় আট লাখ কম ও মাঝারি আয়ের কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।
অন্টারিও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই সমন্বয়ের পর প্রদেশটির ন্যূনতম মজুরি এখন কানাডার প্রদেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রদেশের শ্রমবাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ, ভাড়ার বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও শ্রমিক সংকট সব মিলিয়ে এই বৃদ্ধি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বেতনও ঘণ্টায় ১৬.৬০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ১৮ বছরের নিচের শিক্ষার্থীরা সাধারণত স্কুলের ছুটির সময় ও পার্ট-টাইম ভিত্তিতে কাজ করে থাকে।
অন্যদিকে, ‘হোমওয়ার্কার’ বা যারা বাড়িতে বসে কাজ সম্পাদন করেন যেমন কাপড় সেলাই, ফোন কল রিসিভ করা, প্যাকেজিং বা অ্যাসেম্বলি কাজ তাদের ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ১৯.৩৫ ডলার হয়েছে। এরা সাধারণ ন্যূনতম মজুরির তুলনায় বেশি পান, কারণ আইন অনুযায়ী বাড়িতে কাজ করা শ্রমিকরা অতিরিক্ত সুরক্ষা পান।
প্রদেশের তথ্যমতে, যারা ন্যূনতম মজুরি বা তার কাছাকাছি মজুরি পান তাদের মধ্যে ৩৬% কর্মী খুচরা বিক্রয় (Retail) খাতে এবং ২৩% কর্মী অ্যাকোমোডেশন ও খাদ্য পরিষেবা খাতে (Accommodation & Food Services)। অর্থাৎ দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, হোটেল ও খাদ্য পরিষেবা শিল্প এই বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অন্টারিওর পাশাপাশি ম্যানিটোবা, সাস্কেচুয়ান, নোভা স্কশিয়া এবং প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডেও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে এই বছর ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের পথে হাঁটছে।
শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, মজুরি বৃদ্ধি জীবিকার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে ছোট ব্যবসায়ীরা সতর্ক করছেন যে, মজুরি বৃদ্ধির ফলে অপারেশনাল খরচ বাড়বে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সংকুচিত করতে বাধ্য হতে পারে।
তবে সার্বিকভাবে, সরকারের আশা এই সমন্বয় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনবে এবং প্রদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
