
উত্তর অন্টারিওর কাপুস্কাসিং শহরের অন্যতম প্রধান শিল্পপ্রতিষ্ঠান কাপ পেপার আশু ফেডারেল সহায়তা না পাওয়ার কথা জানালেও, অটোয়া জানিয়েছে যে তারা পেপার মিলটি রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফেডারেল অর্থ না পাওয়ায় কোম্পানিটি আপাতত ‘অলস বসে থাকার’ কথা জানালে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কর্মী ও জনসাধারণের মধ্যে।
শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কাপুস্কাসিংয়ের এই পেপার মিলের আর্থিক সংকটের বিষয়টি তারা নজরে নিয়েছেন এবং স্ট্র্যাটেজিক ইনোভেশন ফান্ডসহ বিভিন্ন ফেডারেল কর্মসূচির মাধ্যমে সাহায্যের পথ খোঁজা হচ্ছে। জোলির কার্যালয় আরও জানিয়েছে, তারা কোম্পানির সঙ্গে “সরাসরি ও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে”, যাতে মিলটির কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সমাধান দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।
কাপ পেপার মিলটি শুধু শহরের প্রধান শিল্পই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও মূল চালিকাশক্তি। কারখানায় সরাসরি কাজ করেন প্রায় ৪২০ জন কর্মী। মিলটির উপর নির্ভরশীল সরবরাহকারী, পরিবহন, লজিস্টিক্সসহ বিভিন্ন খাতে আরও প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান বজায় থাকে। তাই এই মিলের সম্ভাব্য বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরো কাপুস্কাসিং কমিউনিটির জন্য এক বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সোমবার কাপ পেপার জানায় যে তারা অন্টারিও প্রাদেশিক সরকারের কাছ থেকে ৫ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা পেয়েছে। এই অর্থ মূলত চলতি ব্যয় নির্বাহ ও জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে। তবে কোম্পানির দাবি, প্রাদেশিক সহায়তার পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের কাছ থেকেও দ্রুত আর্থিক সমর্থন প্রয়োজন ছিল। প্রথমদিকে অটোয়ার পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এলেও পরবর্তীতে তারা তৎক্ষণাৎ আর্থিক সহায়তা দিতে সক্ষম হয়নি।
অন্টারিও সরকার জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির চলতি ব্যয় মেটাতে তারা উল্লেখযোগ্য অংকের সহায়তা দিয়েছে। তবে ফেডারেল সরকার যদি সময়মতো জরুরি সহায়তা দিতে পারত, তাহলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব হতো বলে তাদের মন্তব্য। প্রাদেশিক সরকারের বক্তব্যে ফেডারেল ভূমিকা নিয়ে একটি চাপা অসন্তুষ্টি স্পষ্ট।
সমালোচনা সত্ত্বেও অটোয়া জানিয়েছে যে তারা কাপ পেপারকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোলির কার্যালয় বলেছে “কাপ পেপার বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, এটি কর্মীদের জীবন, তাদের পরিবার এবং পুরো কাপুস্কাসিং কমিউনিটির ওপর গুরুতর আঘাত হানবে। তাই আমরা কোম্পানির সঙ্গে একত্রে সমাধান খুঁজে যাওয়ার কাজ অব্যাহত রাখছি।”
বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিলটির কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করা। প্রাদেশিক সহায়তার পাশাপাশি ফেডারেল তহবিলের সমর্থন মিললে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে অটোয়ার সহায়তা কত দ্রুত পাওয়া যাবে সেটিই এখন নির্ধারণ করবে কাপ পেপার ও এর ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষের ভবিষ্যৎ।
