গাজা যুদ্ধ চললে ফিলিস্তিনে নির্বাচন অসম্ভব

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত জুলাইয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। কানাডার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি ছিল অন্যতম প্রধান শর্ত। তবে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেছে পিএ।

ফিলিস্তিনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য প্রথমে ফিলিস্তিনের সব অঞ্চলে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “গাজায় যুদ্ধ বন্ধ হলে তার এক বছরের মধ্যে আমরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে নির্বাচন আয়োজন করতে পারব। এর আগে তা সম্ভব নয়।”

- Advertisement -

তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের জুলাইয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জরুরি সংস্কারের পথে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকলেই কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত। অটোয়া থেকে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয় – ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, হামাসকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া, শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, বেসামরিক প্রশাসনকে শক্তিশালী করা, এই সংস্কার সম্পন্ন করলেই কানাডার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

তবে কানাডায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ফিলিস্তিনের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর ভরসা রাখা যায় না, এবং তাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কানাডার স্বীকৃতির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন – “শুধু স্বীকৃতি পাওয়ার বিনিময়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নয়; আমরা যা করছি, তা ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণের জন্য।”

তিনি আরও যোগ করেন, গাজার যুদ্ধ বন্ধ না হলে নির্বাচন পরিচালনার মতো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা অসম্ভব, তাই বাস্তবসম্মত সময়সীমা বিবেচনা করতে হবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের।

ফিলিস্তিনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে, যেখানে হামাস জয়ী হয়েছিল। এরপর রাজনৈতিক বিভাজন, অভ্যন্তরীণ সংঘাত, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষত গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, মানবিক বিপর্যয় ও অব্যাহত সহিংসতা—নির্বাচন আয়োজনকে আরও জটিল করে তুলেছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এর বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে গাজায় সহিংসতা বন্ধ হওয়া এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর। অন্যদিকে, কানাডা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আগে সংস্কার বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক মাস ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent