বিদেশি কারাগার থেকে জিমি লাইয়ের মুক্তি দাবি

জিমি লাই হংকং ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং অ্যাপল ডেইলি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ২০২০ সালে বেইজিং সমর্থিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন

জি–৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক যখন অন্টারিওর নায়াগ্রা–অন–দ্য–লেকে শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সেখানে বসবাসকারী সাবেক বাসিন্দা ও হংকংয়ের খ্যাতনামা গণতন্ত্রপন্থী প্রকাশক জিমি লাইয়ের পরিবার বিদেশি কারাগার থেকে তার দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে। হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনবলে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া লাই বর্তমানে বিচার শেষ হওয়ার পর রায়ের অপেক্ষায় আছেন এবং ইতোমধ্যে তিন বছরের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছেন।

জিমি লাই হংকং ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং ‘অ্যাপল ডেইলি’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ২০২০ সালে বেইজিং-সমর্থিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন। এই আইনটি মূলত ২০১৯ সালের তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হয়। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা, রাষ্ট্রদ্রোহী প্রকাশনার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া। এই অভিযোগে সাজা হতে পারে তিন বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

- Advertisement -

লাইয়ের পরিবার জানিয়েছে, ৭৮ বছর বয়সী এই গণতন্ত্রকর্মীকে গত তিন বছরেরও বেশি সময়ের বেশিরভাগ সময় নির্জন সেলে রাখা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২৩ ঘণ্টা জানালাবিহীন কক্ষে থাকতে হয় তাকে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস তার শারীরিক দুর্বলতা বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

লাইয়ের ভাতিজি এরিকা লেপ ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন “আমার চাচা সারা জীবন ন্যায্যতা ও সত্যের পক্ষে লড়াই করেছেন। তার এই বন্দিত্ব শুধু তার ওপর আঘাত নয়, বরং কানাডিয়ান নাগরিক হিসেবে আমরা যে মূল্যবোধ ধারণ করি স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার—তার ওপরও আঘাত।” তিনি আরও বলেন, জিমি লাই সবসময় নায়াগ্রা–অন–দ্য–লেককে তার ‘কানাডিয়ান বাড়ি’ হিসেবে দেখেছেন এবং এখানকার সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।

লাইয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬০ দিনের বিচার কার্যক্রম চলে এবং তা গত আগস্টে শেষ হয়। আদালতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, লাই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আন্দোলনের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শক্তিগুলোর কাছে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছেন।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং চীনের কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর “এক দেশ, দুই ব্যবস্থা” নীতির অধীনে অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন বজায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের ফলে বহু গণতন্ত্রপন্থী নেতা, সাংবাদিক ও কর্মী গ্রেপ্তার হন এদের মধ্যে জিমি লাই অন্যতম কেন্দ্রীয় মুখ।

জি–৭ সম্মেলনকে ঘিরে যখন মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই লাইয়ের পরিবার কানাডা ও পশ্চিমা দেশগুলোর নেতাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছে ৭৮ বছর বয়সী এই গণতন্ত্রকর্মীকে মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে।

লাইয়ের ভাগ্যে কী ঘটবে এখন তা আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে; তবে পরিবার বলছে, সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হচ্ছে মানবিক দিক বিবেচনায় এখনই শক্ত পদক্ষেপ দরকার।

- Advertisement -

Read More

Recent