
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ফেডারেল সরকারের প্রতি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাদের পূর্ববর্তী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। কানাডার অর্থনীতির নিয়মিত মূল্যায়নের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ সুপারিশ করে। শুক্রবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দেশের আর্থিক কাঠামো, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর উপস্থাপিত ফেডারেল বাজেটে অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে উচ্চ সরকারি বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, তা বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে যুক্তিযুক্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও বাণিজ্য অনিশ্চয়তা কানাডার অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি করছে, তা মোকাবিলায় সরকারি বিনিয়োগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তবে একই সঙ্গে আইএমএফ উল্লেখ করেছে কানাডার আর্থিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে একটি স্পষ্ট ‘ঋণ-জিডিপি অ্যাংকর’ থাকা জরুরি, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা দেবে।
বর্তমান লিবারেল সরকার পূর্ববর্তী ঋণ-জিডিপি হ্রাসের লক্ষ্যকে প্রতিস্থাপন করে গত তিন বছরের জন্য ধীরে কমতে থাকা ঘাটতি-জিডিপি অনুপাত এবং মধ্যমেয়াদে ভারসাম্যপূর্ণ পরিচালন বাজেটকে নতুন আর্থিক নির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করেছে।
বাজেট উপস্থাপনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সংসদীয় বাজেট কর্মকর্তা জেসন জ্যাকস ঋণ-জিডিপি হ্রাসের লক্ষ্য বাদ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বাজেট ঘোষণার পর তিনি জানান দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক পথচলা টেকসই মনে হলেও স্বল্পমেয়াদি নতুন অর্থনৈতিক অ্যাংকরগুলো অর্জনে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আইএমএফ-এর সুপারিশ সরকার গ্রহণ করবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী ফ্রাসোয়াঁ-ফিলিপ শ্যাম্পেইনের দপ্তর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তার মুখপাত্র জন ফ্রাগোস এক বিবৃতিতে জানান, কানাডার ঋণ-জিডিপি অনুপাত স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং সংসদীয় বাজেট কর্মকর্তা ও আইএমএফ উভয়েই দেশের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাকে “টেকসই” হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
আইএমএফ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলেছে সরকারের নতুন ব্যয় কাঠামোর অধীনে পুঁজি ব্যয় বা মূলধন বিনিয়োগের সংজ্ঞায়ন ও মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির মতে, আর্থিক নীতির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে ব্যয় পরিমাপ জরুরি।
প্রতিবেদনের শেষ অংশে আইএমএফ জানায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্ককে কেন্দ্র করে কানাডার বাণিজ্যে যে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে দেশটি তার তুলনায় ভালো পরিস্থিতিতে রয়েছে। বৈচিত্র্যময় রপ্তানি বাজার এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এই ধাক্কা কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করছে।
