প্রত্যাহার আইন অপব্যবহারের দাবি

বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে জেসন কেনি জানান বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তিনি হতাশ তার প্রতিষ্ঠিত দল ইউনাইটেড কনজার্ভেটিভ পার্টির অন্তত ১৪ জন ককাস সদস্য এখন প্রত্যাহার পিটিশনের মুখোমুখি

আলবার্টার রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে রাজনীতিক প্রত্যাহার আইন। আইনের অন্যতম প্রধান স্থপতি ও আলবার্টার সাবেক প্রিমিয়ার জেসন কেনি পরিষ্কার করে বলেছেন এ আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য কখনোই ছিল না। বরং কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি অবৈধ বা অনৈতিক আচরণে জড়িয়ে পড়েন, জনদাবির মুখে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ছিল এই আইনের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে জেসন কেনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তিনি হতাশ। তার প্রতিষ্ঠিত দল ইউনাইটেড কনজার্ভেটিভ পার্টির অন্তত ১৪ জন ককাস সদস্য এখন প্রত্যাহার পিটিশনের মুখোমুখি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই পিটিশনগুলো আনা হয়েছে ঠিক সেই আইন ব্যবহার করেই, যা আলবার্টায় ইউসিপির প্রিমিয়ার থাকাকালে তিনি নিজেই প্রণয়ন করেছিলেন।

- Advertisement -

নাগরিকদের অভিযোগ ইউসিপির প্রতিনিধিরা স্থানীয়দের উদ্বেগ-আকাঙ্ক্ষার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জনবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলেই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

আইনটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেনি বলেন “আমরা খুবই উচ্চ মানদণ্ড ঠিক করেছিলাম। সত্যি বলতে, ১৯৯১ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এনডিপি সরকার যে নীতিমালা তৈরি করেছিল, আমরা তার মডেলই অনুসরণ করেছি। লক্ষ্য ছিল—জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে কোনো দায়িত্বহীন বা অসদাচরণকারী নেতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা।” তিনি আরও বলেন, এনডিপি সরকার যে সময়ে উপ-নির্বাচনের নিয়মে সংস্কার এনেছিল, সেটি ছিল জনগণের চাপেই আর ঠিক একই যুক্তিতে তার সরকার আলবার্টায় প্রত্যাহার আইন বাস্তবায়ন করে।

জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেসন কেনি, এরপর রাজনৈতিক চাপ ও দলীয় বিরোধের কারণে পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি স্টিফেন হারপারের ফেডারেল সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমান প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইউসিপি এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। যেখানে দলের ১৪ জন সদস্যই প্রত্যাহার পিটিশনের মুখে, সেখানে ধারণা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই স্মিথের নামও তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

একজন সক্রিয় পিটিশনার জানান “আমাকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কিছু প্রক্রিয়া আছে। স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করলেই এটি কার্যকর হবে।” এরই মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রদেশে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ স্মিথ সরকারকে প্রতিনিয়ত চাপে ফেলছে। অভিযোগ জনগণের কথা শোনা হচ্ছে না, চার্টারের নটউইথস্ট্যান্ডিং ক্লজ ব্যবহারেও ক্ষোভ।

প্রত্যাহার দাবির পক্ষে যেসব মূল যুক্তি উঠেছে সেগুলো হলো

১. সংসদীয় এলাকার মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দেওয়া

সমালোচকদের অভিযোগ ইউসিপি এমএলএরা স্থানীয়দের সমস্যার প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিচ্ছেন না এবং তাদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না।

২. অক্টোবরে শিক্ষকদের ধর্মঘট মোকাবিলায় চার্টারের ‘নটউইথস্ট্যান্ডিং ক্লজ’ প্রয়োগ

এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষকদের অধিকারের প্রশ্নে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারা এভাবে ব্যবহার করা জনগণের একাংশ ‘অবিশ্বাস ভঙ্গ’ হিসেবে দেখছে। বিরোধীরা বলছে স্মিথ সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে।

জেসন কেনির তৈরি আইন এখন তারই দলের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন জনগণের আস্থা হারালে আইন কতটা শক্তিশালী হতে পারে তারই উদাহরণ এটি। ইউসিপির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। প্রত্যাহার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে সহজ নয়, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি যে চাপ তৈরি করছে সেটাই বড় বিষয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আলবার্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পিটিশনগুলো সফল হোক বা না হোক রাজনৈতিক বার্তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট: জনগণের আস্থা হারালে কোনো সরকারই নিরাপদ নয়।

- Advertisement -

Read More

Recent